
চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে এনডিএফ-এর মানববন্ধন
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকরা নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দিনরাত মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, অথচ দেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লাঞ্ছনার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সন্ত্রাসীরা দিন দিন আরও বেপারোয়া হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তারা গতরাতের ঘটনার বিবরণ দেন।
বক্তারা জানান, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও সীমিত জনবলের মধ্যেও ডা. নাসির ইসলাম নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এমন সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক গুরুতর হৃদরোগীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসী হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে ভাঙচুর চালায় এবং ডা. নাসিরের ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করে। এমনকি তিনি আত্মরক্ষার্থে ওয়াশরুমে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনে বের করে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাদের বাধা দিতে গিয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্যরাও গুরুতর আহত হন। বক্তারা একে কেবল একজন চিকিৎসকের ওপর আক্রমণ নয়, বরং দেশের সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিকের মতো নিরলসভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দেওয়ার পরও যদি হাসপাতালে চিকিৎসকদের মারধরের শিকার হতে হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার কারণেই এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বিশেষ সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন করার জোর দাবি জানান তিনি।
উক্ত মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ, সহ-সভাপতি ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান এবং বিসিএস হেলথ ফোরামের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ সহ বিশিষ্ট চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন