
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওলবাকিয়া পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে এবার বিজ্ঞানভিত্তিক 'ওলবাকিয়া' (Wolbachia) পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৈঠকে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বাধীন 'ওয়ার্ল্ড মস্কুইটো প্রোগ্রাম' (WMP)-এর সহযোগিতায় এই নতুন প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের ডিসেম্বরে (২০২৫) এই লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রকল্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এই ওলবাকিয়া কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা
আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতির গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:
"ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওলবাকিয়া পদ্ধতির একটি পাইলট প্রকল্প আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এটি একটি প্রমাণ-নির্ভর পদ্ধতি যা বিশ্বজুড়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।"
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে তারা 'ওয়ার্ল্ড মস্কুইটো প্রোগ্রাম'-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে দ্রুত একটি কারিগরি ও আর্থিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
ওয়ার্ল্ড মস্কুইটো প্রোগ্রামের অ্যাডভোকেসি এবং এক্সটার্নাল রিলেশনস ডিরেক্টর ড. ক্লদিয়া সুরজাদজাজা বৈঠকে তাদের বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সংস্থাটি এই প্রকল্পটি সফল করতে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এটি একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি যেখানে মশার শরীরে 'ওলবাকিয়া' নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত মশা যখন পরিবেশে ডেঙ্গু বহনকারী মশার সঙ্গে প্রজনন করে, তখন মশার বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে আসে।
সরকারের এই উদ্যোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের মাইলফলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন