




বিএমইউতে বাংলাদেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ
তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের ৫ জনে ১ জন মডি নামের বিশেষ ধরণের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সনাক্তকরণ ও জেনেটিক্যাল রিসার্চে গুরুত্বারোপ
আজ বৃস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তারিখেবিএমইউ এর শহীদ ডা. মিলন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের ৫ জনে ১ জন মডি নামের বিশেষ ধরণের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞ ডায়াবেটিস এর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মডি সনাক্তকরণ ও জেনেটিক্যাল রিসার্চে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় প্রতি ৫ জনে ১ জনের ক্ষেত্রে ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং (মডি)’ নামে পরিচিত বিশেষ ধরণের ডায়াবেটিস সম্পর্কিত কিছু জিনে পরিবর্তন দেখা গেছে। অর্থাৎ সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনের নিদর্িৃষ্ট কিছু জিনে পরিবর্তন ছিল, যা মডি নাামে পরিচিত একটি বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জিনগত পরিবর্তনগুলো প্রধানত কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন। এই জিনগত পরিবর্তন আছে এবং নেই—এমন রোগীদের ক্লিনিক্যালভাবে আলাদা করা কঠিন। এই ফলাফল প্রাথমিক এবং অনুসন্ধানমূলক; চিকিৎসায় প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এই ধরণের ডায়াবেটিস নতুন নয়, আবার টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসও নয়। তাই রোগীর সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং তরুণদের এই রোগ থেকে নিরাপদ রাখতে এ ধরণের ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা জরুরি।
‘ডিসেমিনেশন অফ পাবলিশড পিএইচডি রিসার্চ অফ ডা. মাশফিকুল হাসান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রচলিত ডায়াবেটিসের ধরনে পড়ে না। এই গবেষণা থেকে বোঝা যায়: বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে ভিন্ন হতে পারে। বর্তমান নির্ণয় পদ্ধতিগুলো আমাদের জনসংখ্যার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নাও হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ গবেষণা প্রয়োজন ও সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিউ-১ জার্নালে এ প্রকাশিত হয়েছে—যা এর বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএমইউর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে এই ধরণের জেনেটিক্যাল স্ট্যাডি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। তবে রোগীদের জন্য, চিকিৎসকদের জন্য এ ধরণের জেনেটিক্যাল রিসার্চ আরো হওয়া প্রয়োজন। যা রোগীদেরকে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিশেষ অবদান রাখবে।
বিএমইউ এর এন্ডোক্রানোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান, অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, ডা. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আরও পড়ুন