
বই মেলায় ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে ডা. তুরাবের বই ‘ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য (ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)
বই মেলায় ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে ডা. তুরাবের বই ‘ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য (ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)’

হয়ত খেয়ালেই করছেন না আপনি কিংবা আপনা ঘরে থাকা ছোট্ট সন্তানটি আসক্ত হয়েছে পড়ছে। হ্যাঁ সত্যিই হয়ত আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এটি ডিজিটাল আসক্তি। এ আসক্তি তৈরি হয়ে অনিয়নন্ত্রিত ডোপামিন নাকি বিশেষ হরমোনের কারণে। তাহলে এর সমাধান কী হতে পারে? তা নিয়েই এবারের বই মেলায় বিশেষ বই নিয়ে এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাদী মাসুদ আল তুরাব। ‘ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য(ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)’বইটিতে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন, ডিজিটাল যুগ মানুষের জীবনকে যেমন দ্রুততর ও সংযুক্ত করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে নতুন এক মানসিক ও আচরণগত সংকট—মনোযোগের ভাঙন। অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আসক্তি।
বইটিতে লেখক তুলে আনার চেষ্টা করেছেন, কিভাবে স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট মানুষের মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা বা ডোপামিন চক্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করছে, যে অনেক সময় মানুষ অজান্তেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে পড়ে।
নিউরোসার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক লেখক ডা. সাদী, স্নায়ুবিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে মানুষের মনোযোগ, আচরণ এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীর ওপর ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ বইটিকে একটি শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিয়েছে। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিষয়ক লেখালেখির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন তার সেই অভিজ্ঞতাও ফুটে উঠেছে বইটিতে।
বইটিতে লেখক মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভূমিকা, অভ্যাস গঠনের স্নায়ুবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদমিক নকশা কীভাবে মানুষের মনোযোগকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শর্ট ভিডিও বা নোটিফিকেশন-নির্ভর ডিজিটাল পরিবেশ মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনার চক্র তৈরি করে এবং কীভাবে সেই চক্র ধীরে ধীরে আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
গ্রন্থটি মোট ৩৪টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। প্রতিটি অধ্যায়ে মনোযোগের ভাঙন, অভ্যাসের মনোবিজ্ঞান, ডিজিটাল ট্রিগার, সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে একঘেয়েমি, চাপ, মানসিক ক্লান্তি বা একাকিত্বের মতো অনুভূতিগুলো মানুষকে অজান্তেই বারবার ফোনের দিকে টেনে নেয় এবং কীভাবে পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে সেই অভ্যাসের চক্র ভাঙা সম্ভব।
বইটিতে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বাস্তবধর্মী কিছু কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে— যেমন সময়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিকল্পনা করা, মনোযোগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা, ডিজিটাল ট্রিগার শনাক্ত করা এবং প্রযুক্তিকে সচেতনভাবে ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা। লেখক দেখিয়েছেন, সমস্যাটি কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতার নয়; আধুনিক ডিজিটাল পরিবেশ নিজেই এমনভাবে নির্মিত যে মানুষের মনোযোগকে বারবার আকর্ষণ করে। ফলে সমাধানও হতে হবে সচেতন ও কাঠামোগত।
বাংলা ভাষায় ডিজিটাল মনোবিজ্ঞান, ডোপামিন-নির্ভর আচরণ এবং মনোযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বই খুব বেশি নেই। সে দিক থেকে “ডিজিটাল সুস্বাস্থ্য (ডোপামিন নিয়ন্ত্রণ কৌশল)” একটি সময়োপযোগী ও চিন্তাপ্রসূত সংযোজন। বর্তমান প্রজন্ম, অভিভাবক, শিক্ষক এবং পেশাজীবীদের জন্য বইটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
অমর একুশে বইমেলায় ছায়াবীথি প্রকাশনী (স্টল নম্বর: ৪৯৯–৫০২)-এ পাওয়া যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে মনোযোগ, মানসিক ভারসাম্য ও সচেতন প্রযুক্তি ব্যবহারের আলোচনায় এই বই পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন