Ad
Advertisement
Doctor TV

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬


রমজানে সুস্থ থাকতে ১০টি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত টিপস, যা অনুসরণ করলে রোজা রাখা হবে সহজ, নিরাপদ ও উপকারী

Main Image

রমজানে সুস্থ থাকতে ১০টি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত টিপস, যা অনুসরণ করলে রোজা রাখা হবে সহজ, নিরাপদ ও উপকারী


রমজানে সুস্থ থাকতে ১০টি কার্যকর টিপস

১. সাহরি কখনোই বাদ দেবেন না

সাহরি হলো রোজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। সাহরি বাদ দিলে সারাদিন শরীর দুর্বল থাকে এবং রক্তচাপ ও সুগার কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সাহরিতে এমন খাবার খেতে হবে যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়।

সাহরিতে রাখুন—

  • ভাত বা আটার রুটি
  • ডাল
  • ডিম বা মাছ
  • শাকসবজি
  • দই

২. সাহরিতে অতিরিক্ত লবণ ও ঝাল এড়িয়ে চলুন

সাহরিতে বেশি লবণ ও ঝাল খাবার খেলে সারাদিন তৃষ্ণা বেশি পায়। ফলে পানিশূন্যতা ও মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দেয়। তাই সাহরিতে হালকা ও কম মসলাযুক্ত খাবার বেছে নিন।

৩. ইফতারে হঠাৎ বেশি খাওয়া যাবে না

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে অনেকেই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। এতে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক ও বমি ভাব দেখা দেয়। ইফতার শুরু করা উচিত হালকা খাবার দিয়ে।

ইফতারের শুরুতে ভালো—

  • পানি
  • খেজুর
  • ফলের রস
  • হালকা স্যুপ

এরপর ধীরে ধীরে মূল খাবার খান।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

রমজানে সুস্থ থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানিশূন্যতা এড়ানো। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।

একসঙ্গে বেশি পানি না খেয়ে—

  • ইফতারের পর
  • তারাবির পর
  • ঘুমানোর আগে
  • সাহরির সময়

অল্প অল্প করে পানি পান করুন।

৫. ভাজাপোড়া ও জাঙ্ক ফুড কম খান

সমুচা, পেঁয়াজু, বেগুনি, পাকোড়া—এসব রমজানের জনপ্রিয় খাবার হলেও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ে, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় এবং হজমের সমস্যা হয়। সপ্তাহে সীমিত পরিমাণে এসব খাবার গ্রহণ করাই উত্তম।

৬. ইফতার ও সাহরিতে ফল ও শাকসবজি রাখুন

ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার, যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

ভালো ফল—

  • তরমুজ
  • পেঁপে
  • কমলা
  • আপেল

শাকসবজি—

  • লাউ
  • পালং শাক
  • গাজর

৭. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

রমজানে ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যায়। কম ঘুম হলে মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ ও দুর্বলতা দেখা দেয়। চেষ্টা করুন দিনে অন্তত ৬–৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করতে।

প্রয়োজনে—

  • দুপুরে ২০–৩০ মিনিট বিশ্রাম নিন

৮. হালকা ব্যায়াম করুন

রমজানে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। তবে হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং শরীরকে সক্রিয় রাখে।

সবচেয়ে ভালো সময়—

  • ইফতারের ১–২ ঘণ্টা পর
  • অথবা সাহরির আগে হালকা হাঁটা

৯. গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচতে সচেতন থাকুন

রমজানে গ্যাস্ট্রিক খুব সাধারণ সমস্যা। অতিরিক্ত তেল-মসলা, চা-কফি ও খালি পেটে দীর্ঘ সময় থাকলে অ্যাসিডিটি বাড়ে।

গ্যাস্ট্রিক কমাতে—

  • সাহরি বাদ দেবেন না
  • অতিরিক্ত চা-কফি পরিহার করুন
  • দই ও আঁশযুক্ত খাবার খান

১০. দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা কিডনি রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হতে পারে।

আরও পড়ুন