ফিলিস্তিনের গাজা নগরে দুর্ভিক্ষ চলছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) আইপিসির প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত দুর্ভিক্ষ, যেখানে গাজার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটে ভুগছে।
আইপিসির তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, গাজা নগর বর্তমানে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সর্বোচ্চ স্তরে—আইপিসি ধাপ ৫-এ রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধার কারণে গাজায় খাদ্যসামগ্রী প্রবেশ করানো যায়নি।’
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই এবং প্রতিবেদনটি ‘হামাসের প্রচারিত ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি’।
আইপিসি বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ এবং ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি ঘটেছে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েল কর্তৃক ত্রাণ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট তৈরি হয়। মে মাসে সীমিত সহায়তা প্রবেশ করলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার আরও দুটি বড় অঞ্চল—দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিস—এ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৪১ হাজারে পৌঁছাতে পারে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
আইপিসি দুর্ভিক্ষ শনাক্তের জন্য তিনটি প্রধান মানদণ্ড ব্যবহার করে—২০ শতাংশ পরিবারের তীব্র খাদ্যঘাটতি থাকা, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশের তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা, এবং প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে কমপক্ষে দুজনের অপুষ্টি বা সংশ্লিষ্ট কারণে মৃত্যুবরণ করা।
এই সব শর্তই গাজা নগরে বিদ্যমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি দ্রুত ও কার্যকর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে গাজার বাকি অংশেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগবে না।
আরও পড়ুন