চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পাঁচ দিন ধরে চলা কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। দাবি মেনে নেওয়ায় কর্মবিরতি স্থগিত করার কথা জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।
এর আগে, গত ১৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে পর দিন ১৬ আগস্ট এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

এ নিয়ে ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনদের একাংশ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন চিকিৎসকসহ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
ওই দিন মানববন্ধনে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে কোনো রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামলার ঘটনার সুরাহা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে তিনটি দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। সেগুলো হলো—হামলার সঙ্গে যারা জড়িতদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে মামলা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার কার্যক্রম শুরু করা। পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ এক/দুইজন স্বজনকে থাকার অনুমতি দেওয়া এবং এর বেশি লোককে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়া। মামলার অগ্রগতি চিকিৎসকদের সামনে উপস্থাপন করা।