ফুসফুসের ক্যানসার বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠার মতো লক্ষণ। তবে রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ অনেক সময় খুবই সূক্ষ্ম হয় এবং সেগুলোকে সাধারণ জীবনযাপন, বয়স বা দৈনন্দিন ক্লান্তির ফল বলে ভুল করা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করাই গুরুত্বপূর্ণ।
কাঁধ ও ওপরের পিঠে ব্যথা
ফুসফুসের একেবারে ওপরের অংশে তৈরি কিছু টিউমার আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে সাধারণ শ্বাসযন্ত্রের উপসর্গের পরিবর্তে কাঁধ, ওপরের পিঠ এবং বাহুর ভেতরের দিকে তীব্র বা ছড়িয়ে পড়া ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে ফুসফুসের ওপরের অংশের প্যানকোস্ট টিউমারের ক্ষেত্রে কাঁধ ও বাহুতে এ ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেকেই এই ব্যথাকে ভুলভাবে কাঁধের সমস্যা, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে যুক্ত করেন।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট

সিঁড়ি ভাঙার পর হাঁপিয়ে যাওয়াকে অনেকে ব্যায়ামের অভাব, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা বয়স বাড়ার স্বাভাবিক ফল হিসেবে দেখেন। কিন্তু দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজের সময় ধীরে ধীরে বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফুসফুসের টিউমার শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি করতে পারে। আবার ফুসফুসের চারপাশে তরল জমলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও যদি আগের তুলনায় সহনশীলতা কমে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বারবার বুকে সংক্রমণ
বারবার ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী সর্দি-কাশিকে অনেক সময় দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সমস্যা বলে মনে করা হয়। কিন্তু কোনো টিউমার ব্রঙ্কিয়াল নালিকে আটকে দিলে সেখানে শ্লেষ্মা জমে বারবার সংক্রমণ হতে পারে। ফলে চিকিৎসা নেওয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হওয়া কঠিন হতে পারে।
আঙুলের ডগার আকৃতিতে পরিবর্তন
ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি শারীরিক লক্ষণ হলো ‘ফিঙ্গার ক্লাবিং’। এতে আঙুলের ডগা নরম ও মোটা হয়ে যেতে পারে এবং নখ নিচের দিকে বাঁকতে পারে। এই পরিবর্তনকে অনেক সময় রক্তসঞ্চালনের সমস্যা, বয়স বৃদ্ধি কিংবা আর্থ্রাইটিসের কারণে হয়েছে বলে মনে করা হয়।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকা বা টিউমার থেকে নির্গত কিছু হরমোন শরীরের টিস্যুর বৃদ্ধিতে পরিবর্তন আনতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ক্লান্তি দূর না হয়, তাহলে সেটিকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ব্যস্ত জীবন বা বার্নআউটের ফল হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু ক্যানসার কোষ শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রচুর শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে তীব্র ক্লান্তি ও খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যেতে পারে। শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেগুলোকে শুধু জীবনযাপনের স্বাভাবিক সমস্যা হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ উপসর্গের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফুসফুসের ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়—অন্যান্য অনেক কারণেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস