wcm
Back to home

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের উপকারিতা নিয়ে গবেষণা যা বলছে

এই পদ্ধতি নিয়ে নানা ধরনের কথাও শোনা যায়। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, এমনকি আয়ু বাড়ানোর মতো অনেক উপকারের কথাও বলা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট

August 16, 2026

10 min
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের উপকারিতা নিয়ে গবেষণা যা বলছে
সংগৃহীত

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের কাছে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এখন বেশ পরিচিত একটি পদ্ধতি। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা, তারপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিনের খাবার খাওয়া, এই নিয়ম মেনে অনেকেই ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন। কেউ দিনের ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন, বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খান। কেউ আবার সপ্তাহের কয়েক দিন খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পদ্ধতি নিয়ে নানা ধরনের কথাও শোনা যায়। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখা, এমনকি আয়ু বাড়ানোর মতো অনেক উপকারের কথাও বলা হয়।

কিন্তু সত্যিই কি এত উপকার করে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং? নাকি এর কিছু উপকারকে আমরা একটু বেশি বড় করে দেখছি? সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো থেকে যে ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তা বেশ পরিষ্কার। নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা ও শরীরের বিপাকক্রিয়াতেও ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটিকে এমন কোনো জাদুকরী পদ্ধতি বলা যাবে না, যা অন্য সব ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কী

সহজ করে বললে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো কখন খাবেন আর কখন খাবেন না, সেই সময় ঠিক করে খাওয়ার একটি পদ্ধতি। ধরা যাক, কেউ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দিনের সব খাবার খেলেন। এরপর পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আর কিছু খেলেন না। তাহলে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার একটি নিয়ম তৈরি হলো।

আবার কেউ সপ্তাহের পাঁচ দিন স্বাভাবিকভাবে খেয়ে দুই দিন খাবারের পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দিতে পারেন। অর্থাৎ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের একটিমাত্র নিয়ম নেই। এর বিভিন্ন ধরন রয়েছে।

প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাবার
আরও পড়ুন প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাবার

এতে ওজন কমে কেন

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কিছু মানুষের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে। এর একটি সহজ কারণ আছে। দিনের খাবার খাওয়ার সময় কমে গেলে অনেক সময় মোট খাবারের পরিমাণও কমে যায়। ধরুন, কেউ আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বারবার কিছু না কিছু খেতেন। এখন যদি তিনি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার শেষ করেন, তাহলে অজান্তেই অতিরিক্ত খাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে।

ফলে শরীরে আগের তুলনায় কম শক্তি বা ক্যালরি ঢোকে। নিয়মিত এমন হলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে পারে। অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে নয়, বরং মোট খাবারের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণেই ওজন কমে।

তাহলে সাধারণভাবে কম খাওয়ার চেয়ে এটি কি বেশি ভালো?

এখানেই বিষয়টি একটু অন্য রকম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ওজন কমাতে পারে ঠিকই। কিন্তু একই পরিমাণ খাবার কমিয়ে নিয়ম মেনে খেলেও প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া যেতে পারে।

অর্থাৎ কেউ যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খেয়ে নিজের মোট খাবারের পরিমাণ কমাতে পারেন, তাহলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং তার জন্য ভালো কাজ করতে পারে। আবার অন্য কেউ দিনের বিভিন্ন সময়ে পরিমিত খাবার খেয়েও একইভাবে ওজন কমাতে পারেন।

তাই শুধু খাবারের সময় সীমিত করলেই বাড়তি কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে, এমনটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

খাবারের সময় কি তাহলে একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ নয়?

বিষয়টি এত সরলও নয়। আমাদের শরীরের ভেতরে একটি স্বাভাবিক দৈনিক ছন্দ রয়েছে। কখন ঘুম হবে, কখন ঘুম ভাঙবে, কখন ক্ষুধা লাগবে, কখন শরীর বেশি সক্রিয় থাকবে, এসব কাজের সঙ্গে এই ছন্দের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দিনের তুলনামূলক শুরুর দিকে খাবার খাওয়া শরীরের জন্য কিছু ক্ষেত্রে বেশি উপকারী হতে পারে।

অদৃশ্য সংকট: মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ছে
আরও পড়ুন অদৃশ্য সংকট: মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ছে

অন্যদিকে গভীর রাতে বা ঘুমানোর খুব কাছাকাছি সময়ে নিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও খেতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে সন্ধ্যা পেরিয়ে খাবার খেলেই শরীরের ক্ষতি হবে। বরং নিয়মিত খুব দেরিতে খাওয়া এবং দিনের বেশির ভাগ খাবার রাতের দিকে খাওয়ার অভ্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

১৬ ঘণ্টা না খেলেই কি শরীরে বিশেষ কিছু ঘটে?

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো, নির্দিষ্ট ১৬ ঘণ্টা না খেলেই শরীরে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন শুরু হয় এবং এর ফলে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

বাস্তবতা এতটা সহজ নয়। কতক্ষণ না খেয়ে থাকছেন, তার পাশাপাশি কখন খাবার খাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন এবং মোট কতটা খাচ্ছেন, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ১৬ ঘণ্টা না খেয়েও বাকি ৮ ঘণ্টায় অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও বেশি ক্যালরির খাবার খেলে শুধু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন, এমন নয়।

রক্তে শর্করা কমাতে কি সাহায্য করে?

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা উন্নতি হতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, সেই বিষয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না।

বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যারা নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করা উচিত নয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কি উপকারী?

ওজন কমলে রক্তচাপ, রক্তে চর্বির মাত্রা এবং রক্তে শর্করার মতো কিছু বিষয়েও ভালো পরিবর্তন আসতে পারে। এসব পরিবর্তন হৃদ্‌যন্ত্রের জন্যও উপকারী। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট সময় না খাওয়ার কারণে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে যায়, এমন শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

মাইক্রোবায়োম বিপ্লব এসে গেছে, এবং আপনার ডাক্তার প্রস্তুত নন
আরও পড়ুন মাইক্রোবায়োম বিপ্লব এসে গেছে, এবং আপনার ডাক্তার প্রস্তুত নন

স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ভালো ঘুম, ধূমপান না করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আয়ু বাড়ায়, এমন প্রমাণ কি আছে?

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দাবিগুলোর একটি হলো এটি নাকি মানুষকে বেশি দিন বাঁচাতে পারে। কিছু প্রাণীর ওপর গবেষণায় না খেয়ে থাকার সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ কারণে মানুষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফল পাওয়া যাবে বলে আশা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু মানুষের ওপর এখনো এমন যথেষ্ট দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা হয়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে মানুষ বেশি দিন বাঁচবে। তাই এই দাবি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। এটিকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি তাহলে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে?

কিছুটা বলা যায়। এই পদ্ধতির যে কোনো উপকার নেই, তা নয়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে। কিছু মানুষের জন্য নিয়ম মেনে খাওয়ার একটি সহজ উপায়ও হতে পারে। সমস্যা হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় এটিকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন শুধু না খেয়ে থাকলেই শরীরের নানা সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

গবেষণা কিন্তু এতটা নিশ্চিত কথা বলছে না। বর্তমান প্রমাণ থেকে বরং বোঝা যায়, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এবং পরিমিত খাবার খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি নয়। যে পদ্ধতিতে একজন মানুষ দীর্ঘদিন নিয়ম মেনে চলতে পারবেন, সেটিই তার জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।

সবার জন্য কি এই পদ্ধতি ভালো?

না, সবার জন্য নয়। কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন। আবার কারও অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, মাথাব্যথা বা অতিরিক্ত ক্ষুধা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার দিনের দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর খাবার সামনে পেলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

শিশু-কিশোর, গর্ভবতী নারী, সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারী এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই শুধু অন্য কেউ ভালো ফল পেয়েছেন বলে নিজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কাজ করবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

না খেয়ে থাকলেই হবে না, কী খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সময় একটি ভুল অনেকেই করেন। তারা মনে করেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যা খুশি খাওয়া যাবে। আসলে তা নয়।

ধরুন, কেউ প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকছেন। কিন্তু খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, ভাজাপোড়া, প্যাকেটজাত খাবার ও অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাচ্ছেন। এতে শুধু না খেয়ে থাকার সময় বাড়িয়ে খুব একটা লাভ হবে না। বরং খাবারের সময়টুকুতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। শাকসবজি, ফল, মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম, পূর্ণ শস্যের খাবারসহ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় এমন খাবার রাখা ভালো।

রাত জেগে খেলে কী হবে?

যারা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করেন, তাদের অনেকেই দিনের খাবারের সময় খুব বেশি সংকুচিত করে ফেলেন। ফলে সন্ধ্যার পর অনেকটা সময় না খেয়ে থাকার পর রাতে একসঙ্গে বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন।

এভাবে খাওয়ার অভ্যাস সব সময় ভালো নাও হতে পারে। সম্ভব হলে দিনের তুলনামূলক আগের সময়ে খাবারের বেশির ভাগ অংশ খাওয়া এবং ঘুমানোর একেবারে আগে ভারী খাবার না খাওয়াই ভালো। শরীর দিনের আলো ও ঘুমের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। খাবারের সময়ও সেই ছন্দের সঙ্গে যতটা সম্ভব মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে কী মনে রাখা দরকার এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চাইলে প্রথমেই বুঝতে হবে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকাই মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়া এবং নিজের জন্য এমন একটি নিয়ম তৈরি করা, যা দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা সম্ভব।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার বিশেষ কারনগুলো যেনে নিন
আরও পড়ুন স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার বিশেষ কারনগুলো যেনে নিন

খাবারের সময় কমানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং পর্যাপ্ত ঘুমানোও জরুরি। খাবার খাওয়ার সময় কমিয়ে দিয়ে যদি সারাদিন দুর্বল লাগে বা রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে সেই পদ্ধতি হয়তো আপনার জন্য উপযুক্ত নয়।

তাহলে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালো?

এর কোনো একক উত্তর নেই। যে মানুষ নিয়মিত পরিমিত খাবার খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার কারও যদি বারবার অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার শেষ করলে তিনি সহজে অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং তার জন্য কার্যকর হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে পদ্ধতিই বেছে নেওয়া হোক, সেটি যেন স্বাস্থ্যকর হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে মেনে চলা সম্ভব হয়।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে একেবারে অকার্যকর বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি এটিকে ওজন কমানো বা সুস্থ থাকার জাদুকরী উপায় ভাবাও ঠিক নয়।

গবেষণা বলছে, এই পদ্ধতিতে ওজন কমতে পারে। কিছু মানুষের রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও শরীরের বিপাকক্রিয়ার কিছু সূচকেও উন্নতি হতে পারে। তবে এসব উপকারের বড় একটি অংশ ওজন কমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সাধারণভাবে পরিমিত খাবার খেয়েও কাছাকাছি ফল পাওয়া সম্ভব।

তাই শুধু কত ঘণ্টা না খেয়ে থাকছেন, সেটির হিসাব না করে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন, কতটা ঘুমাচ্ছেন এবং কতটা শরীরচর্চা করছেন, সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। শেষ পর্যন্ত ভালো খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো সেটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং কতদিন ধরে মেনে চলা যায়। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কারও জন্য সেই সহজ পথ হতে পারে, আবার কারও জন্য স্বাভাবিক নিয়মে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই হতে পারে ভালো পথ।

সূত্র: বিবিসি

Share
wcm

আরও জানুন

Modern Treatment in Gastroenterology | Doctor TV
স্বাস্থ্য

Modern Treatment in Gastroenterology | Doctor TV

Modern Treatment in Gastroenterology | Doctor TV

Video Desk 1 মি 1 Jul
প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন ডা. নাসিরকে দেখতে জেডআরএফ প্রতিনিধি দল
স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন ডা. নাসিরকে দেখতে জেডআরএফ প্রতিনিধি দল

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত ডা. নাসির আহমদকে দেখতে গেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) একটি প্রতিনিধি দল। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান।

Reporter 10 মি 1 Jul
সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডের চেয়ে কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা দিচ্ছে চীনের গুয়াংজু মডার্ন হাসপাতাল
স্বাস্থ্য

সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডের চেয়ে কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা দিচ্ছে চীনের গুয়াংজু মডার্ন হাসপাতাল

সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডের চেয়ে কম খরচে ক্যানসারের চিকিৎসা দিচ্ছে চীনের গুয়াংজু মডার্ন হাসপাতাল

সানাউল হক 10 মি 1 Jul
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়: বিপিএইচসিডিএ সভাপতি
স্বাস্থ্য

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়: বিপিএইচসিডিএ সভাপতি

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়: বিপিএইচসিডিএ সভাপতি

সানাউল হক 10 মি 1 Jul