অনেকে দুপুরের খাবার শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়েন। কেউ আবার খাবারের পর চা-কফি, মিষ্টি খান। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই খাবারের পর দীর্ঘ সময় একই জায়গায় বসে থাকেন। এসব অভ্যাসের সবগুলো যে খারাপ তা নয়। বরং কিছু অভ্যাস শরীরকে আরাম দিতে পারে, আবার কিছু অভ্যাস বিশেষ করে নিয়মিত করলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। দুপুরের খাবারের পর কী করছেন, সেটিও দৈনন্দিন স্বাস্থ্যচর্চার একটি অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর অল্প সময়ের বিশ্রাম, হালকা হাঁটাহাঁটি এবং পরিমিত খাবারের অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
দুপুরে হালকা ঘুম কি ভালো?
দুপুরে খাওয়ার পর অনেকেরই ঘুম পায়। এই সময় অল্পক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া শরীরের জন্য ভালো। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ন্যাপ ক্লান্তি কমাতে, সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে। তবে ন্যাপ খুব দীর্ঘ হওয়া ঠিক নয়। বেশি সময় ঘুমালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ ঝিমঝিম ভাব থাকতে পারে। নিয়মিত দীর্ঘ সময়ের ন্যাপ রাতে ঘুমাতেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

খাবার শেষ করে বিছানায় যাওয়া ঠিক নয়
দুপুরে অল্প সময় ঘুমানো আর খাবার শেষ করেই শুয়ে পড়া দুটিকে এক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে যাদের বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের পরপরই শুয়ে পড়লে উপসর্গ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস বলছে, যাদের শোয়ার সময় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হয়, তারা খাবার খাওয়ার অন্তত তিন ঘণ্টা পর শুলে উপকার পেতে পারেন। তাই খাবার শেষ করেই বিছানায় যাওয়ার বদলে কিছুক্ষণ সোজা হয়ে থাকা ভালো।
খাবারের পর একটু হাঁটাহাঁটি
দুপুরের খাবারের পর একটু হাঁটার অভ্যাসও করা যেতে পারে। এর জন্য আলাদা করে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক গতিতে অল্প সময় হাঁটলেও শরীর সক্রিয় থাকে। খাবারের পর শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, খাবারের পর ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি রক্তে খাবার-পরবর্তী শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর শারীরিকভাবে সক্রিয় হওয়া বসে থাকার চেয়ে বেশি উপকারী হতে পারে।
খাবারের পর চা-কফি পান করবেন না
দুপুরের খাবারের পর এক কাপ চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। শুধু চা বা কফি পান করাটাই মূল সমস্যা নয়; এতে কতটা চিনি যোগ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের স্বাস্থ্যকর নির্দেশনায় খাবারে মুক্ত চিনির পরিমাণ মোট দৈনিক শক্তির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরও কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে আনতে পারলে বাড়তি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যেতে পারে।

খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন
অনেকের দুপুরের খাবার শেষ হয় মিষ্টি, মিষ্টিজাতীয় খাবার কিংবা কোমল পানীয় দিয়ে। মাঝে মধ্যে এসব খাওয়া আর প্রতিদিন খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস এক নয়। ডব্লিউএইচও বলছে, অতিরিক্ত মুক্ত চিনি শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয়ের সঙ্গেও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটি ধীরে ধীরে কমানো ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুপুরের পরের একটি অভ্যাস দিয়েই পুরো স্বাস্থ্য নির্ধারিত হয় না। সারা দিনের খাবার ও জীবনযাপনের ধরনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি, ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্যের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি কমানো উচিত।