ঢাকা ডেন্টাল কলেজের বয়েজ হোস্টেলের কর্মচারী আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া ডেন্টিস্ট পরিচয়ে নিয়মিত চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক রোগীর আক্কেল দাঁত ফেলতে গিয়ে চোয়াল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি-না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।
তদন্ত কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত আমিরুলকে দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের সায়েন্স অব ডেন্টাল মেটেরিয়ালস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ডা. আনোয়ার সোহেল ও ডা. সমীর কুমার বনিক। তারা উভয়েই কলেজের দুটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল আওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অভিযোগের মূল বিষয় হলো—ওই কর্মচারী চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নিয়েছেন এবং লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যেহেতু আমাদের অফিসের একজন স্টাফ জড়িত, তাই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে দুটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। একটি হলো, ডাক্তার না হয়েও ডাক্তার পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া বা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো—তিনি লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

ডা. আব্দুল আওয়াল বলেন, তদন্ত চলাকালে তাকে অফিসের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের অননুমোদিত চিকিৎসাচর্চাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা অন্য কোনো গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে বিভাগীয় ব্যবস্থা, এমনকি বদলির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, গাজীপুরের সাইদুর রহমান সবুজ গত মে মাসে দাঁতে তীব্র ব্যথা নিয়ে অভিযুক্ত আমিরুলের কাছে গেলে তিনি সবুজকে দাঁত তুলে ফেলার পরামর্শ দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আক্কেল দাঁত ফেলতে গিয়ে তার চোয়াল ভেঙে দিয়েছেন অভিযুক্ত আমিরুল। ডেন্টিস্ট না হয়েও একটি দাঁত ফেলার জন্য সবুজের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন আমিরুল।
সবুজ আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর আদালতে অভিযুক্ত আমিরুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, যা এখনো চলমান। অভিযুক্ত পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিয়ে আপসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান সাইদুর।