ডালিম অনেক পুষ্টিকর ফল হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে বেদানা খাওয়া নিরাপদ। কিছু গবেষণায় বেদানার রস রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা সামান্য কমাতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
দীর্ঘমেয়াদি রোগ, নিয়মিত ওষুধ, কিডনি সমস্যা, রক্তচাপের সমস্যা বা অস্ত্রোপচার সামনে থাকলে নিজের ইচ্ছায় বেশি পরিমাণে বেদানা বা ঘন বেদানার রস না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। ফল হিসেবে বেদানা খাওয়া এবং ঘন রস বা নির্যাস গ্রহণও এক বিষয় নয়।
ডালিম সাধারণভাবে ক্ষতিকর কোনো ফল নয়। সুস্থ মানুষ পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। তবে বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে বেদানা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

যাদের রক্তচাপ খুব কম: বেদানার রস রক্তচাপ কিছুটা কমাতে পারে। তাই যাদের রক্তচাপ এমনিতেই কম, তারা বেশি পরিমাণে বেদানা বা বেদানার রস খেলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগতে পারে। বিশেষ করে রক্তচাপ কমানোর ওষুধ সেবনকারীদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে বেদানার রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে সবার ক্ষেত্রে বেদানা বিপজ্জনকভাবে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়—এমন প্রমাণ নেই।
যারা নিয়মিত ওষুধ খান: বেদানার সঙ্গে কিছু ওষুধের সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়া নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। তাই নিয়মিত একাধিক ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানানো উচিত। তবে বেদানা খেলেই সব ওষুধের সঙ্গে সমস্যা হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কোন ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কত পরিমাণ বেদানা খাওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

যাদের অস্ত্রোপচার সামনে: অস্ত্রোপচারের আগে নিয়মিত ওষুধ, ভেষজ উপাদান ও খাদ্যসম্পূরক সম্পর্কে চিকিৎসককে জানানো জরুরি। বেদানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির প্রমাণ সীমিত। তাই নিজে থেকে বেদানা পুরোপুরি বন্ধ না করে সার্জন বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
যাদের কিডনির সমস্যা: বেদানায় পটাশিয়াম রয়েছে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে অতিরিক্ত পটাশিয়াম শরীর থেকে বের করা কঠিন হতে পারে। তবে কিডনি রোগ থাকলেই বেদানা বাদ দিতে হবে, এমন নয়। রক্তে পটাশিয়াম বেশি থাকলে, হেমোডায়ালাইসিস চললে বা কিডনি প্রতিস্থাপন হয়ে থাকলে চিকিৎসক বা কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী বেদানা খাওয়া উচিত। কিডনি প্রতিস্থাপনের কিছু ওষুধের সঙ্গেও এর সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়।

যাদের অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যা: বেদানা সাধারণত নিরাপদ হলেও কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে। মুখ, ঠোঁট বা গলা চুলকানো, ফুসকুড়ি, ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আবার বেশি বেদানা খেলে ফাইবারের কারণে পেটে অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে।