বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে যত ধরনের ক্যান্সার নির্ণয় করা হয়, তার মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রথম স্থানে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১৫৮টিরও বেশি দেশে এটি নারীদের প্রধান ক্যান্সার
কেমন হতো যদি একটি ভ্যাকসিন বা টিকাই স্তন ক্যান্সার শুরু হওয়ার আগেই তা রুখে দিতে পারত?
বিজ্ঞানীরা 'ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার' (Triple negative breast cancer)-কে লক্ষ্য করে তৈরি একটি টিকার প্রথম মানব ট্রায়াল সম্পন্ন করেছেন এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের একটি গবেষক দল 'আলফা-ল্যাকটালবুমিন' (Alpha lactalbumin) নামক একটি প্রোটিনের বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে।
এই ভ্যাকসিনের মূল লক্ষ্য হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immune system) এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে ক্যান্সার টিউমার তৈরি হওয়ার আগেই তারা এই প্রোটিন উৎপাদনকারী ক্ষতিকর কোষগুলোকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
স্তন ক্যান্সারের অন্যান্য প্রকারের তুলনায় ট্রিপল নেগেটিভ স্তন ক্যান্সার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং এর চিকিৎসা করা বেশ কঠিন। মোট স্তন ক্যান্সার আক্রান্তের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এই ধরনের রোগী হলেও, স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যার একটি বড় অংশই ঘটে এই নির্দিষ্ট ক্যান্সারের কারণে।

প্রথম ধাপের ট্রায়ালে ৩৫ জন নারী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই আগে প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং ক্যান্সারটি পুনরায় ফিরে আসার উচ্চ ঝুঁকি ছিল।
অংশগ্রহণকারীদের ছোট একটি দলের ক্যান্সার ছিল না, তবে তাদের শরীরে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জিন মিউটেশন ছিল এবং তারা আগাম সতর্কতা হিসেবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের স্তন অপসারণ (Mastectomy) করেছিলেন।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় চারজন নারীর মধ্যে তিনজনের (৭৫%) শরীরেই এই ভ্যাকসিনের বিপরীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন রেসপন্স তৈরি হয়েছে।
ভ্যাকসিনটির কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নিরাপত্তা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কেবল ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে সামান্য লালচে ভাব দেখা গেছে।

গবেষক জাস্টিন জনসন এই ইমিউন রেসপন্সকে "প্রথম এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে এই পরীক্ষাটি ছিল বেশ ছোট এবং প্রাথমিক পর্যায়ের। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা এবং সঠিক ডোজ বা মাত্রা নির্ধারণ করা।
বর্তমানে 'অ্যানিক্সা বায়োসায়েন্সেস' (Anixa Biosciences) নামক কোম্পানিটির কাছে এই ভ্যাকসিনের লাইসেন্স রয়েছে এবং ভ্যাকসিনটি সফল হলে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
'অ্যানিক্সা বায়োসায়েন্সেস' জানায় ভ্যাকসিনটি আসলে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করার জন্য একটি বড় পরিসরে ট্রায়ালের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাই চূড়ান্ত উত্তরের জন্য এখনও আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সুত্র: SABCS, Science Sphere