নীলফামারী নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের দুই শিক্ষার্থী আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নার্সদের পেশাগত নিবন্ধন (লাইসেন্সিং) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পরও পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন- মোসাম্মৎ উর্মি আক্তার ও মোসাম্মৎ সেলিনা আক্তার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

তারা জানান, তারা কলেজটির ৪৮ জন ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপও শেষ করেন। লাইসেন্সিং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তারা নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ নাজমা বেগম এবং অফিস সহকারী আফজাল হোসেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অনলাইন সিস্টেমে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য যথাসময়ে ইনপুট না দেওয়ায় তারা পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি। ফলে তাদের সহপাঠীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।

তারা আরও জানান, সমস্যা সমাধানের আশায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নীলফামারী থেকে অফিস সহকারী আফজাল হোসেন এবং ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলে উপস্থিত হন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ওই দুই শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের তথ্য যথাসময়ে অনলাইন সিস্টেমে ইনপুট করা হলে তারা অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কথিত অবহেলার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন ও পেশাগত নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে শিক্ষক ও অফিস সহকারী তাদের রেখে চলে যান। এরপর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।