হবিগঞ্জ শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে আরিফ মিয়া নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে এসআরবি। নিজে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও অন্য চিকিৎসকের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে একাধিক প্রতিষ্ঠানে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসআরবি-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদরুন বিন আকন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ সানজিদ জামান উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযানের খবর পাওয়ার পর মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ ও ব্যবস্থাপক সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আরিফ মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইল শহরে। তার এমবিবিএস ডিগ্রি নেই। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ ডা. মীর মাহবুবুর রহমানের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিতেন আরিফ মিয়া। হবিগঞ্জ শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তিনি এভাবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময়ও ডা. মীর মাহবুবুর রহমানের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদরুন বিন আকন জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসক না হয়েও অন্যের পরিচয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোগীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
এসআরবি-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোশাররফ জানান, আরিফ মিয়াকে শনাক্ত করতে কয়েক দিন ধরে তৎপরতা চালানো হচ্ছিল। পরে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায়ও একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, তদন্ত ও সার্বিক পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।