আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে সর্দি-কাশির মতো বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, একটি সহজ ও সাধারণ অভ্যাস জীবাণুর সংক্রমণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, আর তা হলো— নিয়মিত হাত ধোয়া। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু থেকে বাঁচতে নিয়মিত সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
মৌসুমি রোগ কেন ছড়ায়?
কোনো ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় হাঁচি বা কাশি দিলে তার শরীর থেকে জীবাণু বাতাসে এবং আশপাশের বিভিন্ন জিনিসে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারের কি-বোর্ড, টেবিল বা দৈনন্দিন ব্যবহৃত নানা বস্তুতে এই জীবাণু লেগে থাকে। এছাড়া, হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢাকার পর হাত না ধুয়ে অন্য কোনো বস্তু স্পর্শ করলে সেখানেও জীবাণু ছড়ায়। পরবর্তীতে কোনো সুস্থ ব্যক্তি সেই জীবাণুযুক্ত স্থানে স্পর্শ করার পর না ধুয়ে সেই হাত দিয়ে নিজের নাক, মুখ বা চোখ ছুঁলে তার শরীরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

হাত ধোয়া যেভাবে জীবাণু ঠেকায়
মৌসুমি রোগের জন্য দায়ী কিছু ভাইরাস বিভিন্ন বস্তুর পৃষ্ঠে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে বারবার ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে এগুলো দ্রুত ছড়ায়। নিয়মিত হাত ধোয়ার মাধ্যমে হাত থেকে এসব জীবাণু দূর করা সম্ভব। এতে জীবাণু মুখমণ্ডলে পৌঁছানো বা অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ানোর ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যায়। এমনকি কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস পরিবারের অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাত ধোয়ার সাথে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দিনে অন্তত পাঁচবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে বলা হয়। দীর্ঘ দুই বছর পর্যবেক্ষণের পর দেখা যায়, যারা নিয়মিত এই নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের হার অন্যদের চেয়ে ৪৫ শতাংশ কম ছিল। তবে মনে রাখতে হবে, সংক্রমণ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হাত ধোয়া নয়। নিয়মিত হাত ধুলেই কেউ কখনোই অসুস্থ হবে না— এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, তবে এটি ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি
কার্যকরভাবে জীবাণু মুক্ত হতে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া জরুরি:
পরিষ্কার পানি দিয়ে প্রথমে হাত ভিজিয়ে নিন।
সাবান দিয়ে ভালোভাবে ফেনা তৈরি করুন।
অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ভালোভাবে ঘষুন। আঙুলের ফাঁক, নখের নিচ ও কবজির চারপাশ পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।
পরিষ্কার ও রানিং পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে হাত শুকিয়ে নিন।
কখন হাত ধোয়া জরুরি?
খাবার প্রস্তুত করার আগে, খাওয়ার আগে ও পরে।
শৌচাগার বা টয়লেট ব্যবহারের পর।
বাইরে থেকে ঘরে বা কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর।
কাঁচা সবজি, মাছ কিংবা মাংস কাটার পর।
হাঁচি বা কাশি দেওয়ার পর।

আরও পড়ুন পানি বেশি পান করলে সত্যি কি ওজন কমে?
নিয়মিত হাত ধোয়াকে দৈনন্দিন জীবনের একটি অন্যতম স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে গড়ে তুললে যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ ইনফেকশন থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
সূত্র: সামা টিভি