চিকিৎসকদের নামের সঙ্গে বিএমডিসির অনুমোদনহীন ডিগ্রি বা পদবি ব্যবহার, চেম্বারের তথ্য বিজ্ঞাপন আকারে প্রচার এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।
জনবিভ্রান্তি এড়াতে নিবন্ধনভুক্ত সব চিকিৎসককে তাদের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভিজিটিং কার্ড, প্যাড ও সাইনবোর্ডে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএমডিসি’র নিবন্ধনভুক্ত সব চিকিৎসককে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের জন্য এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চিকিৎসকদের কেউ কেউ নামের সঙ্গে বিএমডিসির অনুমোদনহীন নানা ডিগ্রি সূচক পোস্ট-নোমিনাল ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কাউন্সিলের আইন (২০১০ সালের ৬১ নম্বর আইন) এর ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী- ‘ভুয়া পদবী, ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ। (১) এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোন মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোন নাম, পদবী, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করিবেন না যাহার ফলে তাহার কোন অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেহ মনে করিতে পারে, যদি না উহা কোন স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হইয়া থাকে। ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রী প্রাপ্তগণ ব্যতিত অন্য কেহ তাহাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করিতে পারিবে না।’

বিএমডিসির বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তির উল্লেখ করে বলা হয়, ‘কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লংঘন করিলে উক্ত লংঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ড বা ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত অপরাধ অব্যাহত থাকিলে, প্রত্যেকবার উহার পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থ দন্ডে, বর্ণিত দন্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, দন্ডনীয় হইবেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘চিকিৎসকদের কেউ কেউ তাদের চেম্বার এবং প্র্যাকটিস সম্পর্কিত ছবি সম্বলিত নানা ধরনের তথ্যাদি বিজ্ঞাপন আকারে ইলেকট্রনিকসহ গণমাধ্যম (যেমন: সংবাদপত্র, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও টকশো ইত্যাদি), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (যেমন ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ইত্যাদি) ও দর্শনীয় স্থানসমূহে প্রকাশ/প্রচার করে আসছেন। এ বিষয়ে কাউন্সিলের আইনের অধীন প্রণীত ‘কোড অব প্রফেশনাল কন্ডাক্ট, এটিকেট অ্যান্ড এথিকস’-এর অধ্যায় ৩-এ সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিপালন করা আবশ্যক। কোনো চিকিৎসকের পক্ষে অন্য কোনো পক্ষ এ ধরনের প্রচার করলে তা প্রতিরোধ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দায়ী থাকবেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জনস্বার্থে প্রতারণামূলক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বিএমডিসি উপরোল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন বলে মনে করছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও পৃষ্ঠপোষকদের (যেমন: মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদি) ক্ষেত্র বিশেষে যথাযথ আচরণ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’