হৃদরোগের ঝুঁকি শুধু বয়স বা বংশগত কারণেই বাড়ে না, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নিয়মিত ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি, পরিশোধিত ময়দা ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ধমনীর ভেতরে ধীরে ধীরে চর্বি, কোলেস্টেরলসহ বিভিন্ন পদার্থ জমতে পারে। সময়ের সঙ্গে এই জমাট অংশ ধমনীর পথ সরু করে রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। তবে খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত রাখলে হৃদ্স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সহজ হতে পারে। বিশেষ করে এই তিনটি খাবার নজরে রাখতে পারেন।

বিট
বিটে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট। শরীরে এটি নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হতে পারে, যা রক্তনালিকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই সালাদ, সেদ্ধ বা রান্না করে বিট খেতে পারেন।
বেরিজাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরির মতো ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও অ্যান্থোসায়ানিন। এসব উপাদান কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বেরিজাতীয় ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও উপকারী হতে পারে।

বেদানা
বেদানায় থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বেদানা খাওয়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ধমনির স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি দূর হয় না। সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যাদের আগে থেকেই হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।