রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্দি, শরীর-চোখ ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়াকে সাধারনত আমরা জন্ডিস বলি। জন্ডিসের কিছু উপসর্গ রয়েছে। যেমন— লোহিত রক্তকনিকা দ্রুত ধ্বংস, লিভার প্রদাহতে বিলিরুবিন বিপাক ও পিত্তরসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া।
জন্ডিসের লক্ষণ
* সবসময় জ্বর জ্বর ভাব থাকা
* চোখ ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া
* বমি ভাব থাকা, খাবার খেতে না পারা
* অনেক সময় পেটে ব্যথা দেখা দিতে পারে
* শরীর অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল লাগা

অনেকের ক্ষেত্রে জন্ডিসের লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। রোগের কারণ ও অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে লক্ষণ প্রকাশ পায় বা পরিবর্তিত হয়। জন্ডিস কোন সংক্রামণের কারণে না হলে আপনি ওজন হ্রাস বা ত্বকে চুলকানির মতো উপসর্গগুলো লক্ষ্য করতে পারেন। অগ্ন্যাশয় বা পিত্তথলির ক্যান্সারের সম্পর্কিত জন্ডিসের লক্ষণ হলো পেটে ব্যথা। এছাড়া যকৃতের রোগ যেমন— ক্রনিক হেপাটাইটিস,হেপাটাইটিস এ,বি,সি ও পলি আর্থালজিয়াস ইত্যাদির কারণে জন্ডিস হতে পারে।
জন্ডিসের প্রকোপ কখন বাড়ে
গ্রীষ্মকালে জন্ডিসের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। কারণ, গরমে আমরা বাইরের অস্বাস্থ্যকর পানি, রাস্তার পাশে অপরিস্কার পানিতে বানানো শরবত ইত্যাদি পান করি। এতে জন্ডিসের ভইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। এছাড়া পচনশীল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। বর্ষাকালে নগর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় সুপেয় পানির অভাব দেখা যায়, এর মাধ্যমে রোগ দ্রুত ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। জন্ডিসকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়। যেমন- লিভার সিরোসিস, ভাইরাসের সংক্রামণ, থ্যালাসেমিয়া ও কিছু বিরল জেনেটিক রোগ।

জন্ডিসের ঝুঁকি ও জটিলতা
আমাদের দেশে মানুষের ভাইরাসজনিত লিভার প্রদাহ হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এ, বি,সি,ডি ভাইরাসের সংক্রামণ বেশি হয়, যা সাধারনত দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করে না। তবে কখনো এটি মারাত্মক হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে লিভার ফেইলিওর, মস্তিস্কের ক্ষতি বা রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
* লিভারের কোষগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওর হতে পারে।
* রক্তে টক্সিন বেড়ে গিয়ে মস্তিস্কে প্রভাব ফেলে।
* লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে রক্ত জমানোর প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি হয় না, ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
* কিডনির কার্যক্ষমতা ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
প্রতিরোধে কী করবেন
* বিশুদ্ধ পানি পান করা
* হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়া
* অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকা

* বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় পরিহার করা
* নিরাপদ সূঁচ ব্যবহার করা
জন্ডিস সাধারণত মৃত্যুঝুঁকির শঙ্কা সৃষ্টিকারী নয়। তবে জটিল আকার ধারণ করলে এবং সঠিক চিকিৎসা না করালে বিপজ্জনক হতে পারে।