বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক নার্সকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্সের সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেন শাহীনকে (৪২) আটক করেন আনসার সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে শাহীন মুক্তি পান।
অভিযুক্ত শাহীন উপজেলার নিত্তিপতা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং ভুক্তভোগী তাসমিয়া সুলতানা একই উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে।

জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাসমিয়া সুলতানার সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে সাজ্জাদ হোসেন শাহীনের বিয়ে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ বছর ধরে তাসমিয়া সুলতানা নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিয়ের পর থেকেই শাহীন-তাসমিয়ার দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছিল না। তাদের ঘরে ৮ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মাঝেমাঝেই তাসমিয়াকে নানা ভাবে নির্যাতন করতেন শাহীন। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় প্রায় ৭ মাস আগে তাসমিয়া তার স্বামী শাহীনকে তালাক দেন। এতে তাসমিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শাহীন।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসমিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় শাহীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে তাসমিয়াকে মারধর করেন। তাসমিয়ার চিৎকারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ও আনসার সদস্যরা শাহীনকে আটক করেন। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযুক্ত বলেন, তাসমিয়া আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একমাত্র সন্তানের দিকে তাকিয়ে বহুবার তাসমিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারপরও তালাক দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে তাসমিয়াকে বোঝানোর সময় কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তাকে মারধর করা হয়নি।
এ ব্যাপারে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির জানান, হাসপাতালে দায়িত্বরত তাসমিয়াকে মারধরের অভিযোগে শাহীনকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে মুচলেকা দিয়ে শাহীন ছাড়া পেয়েছেন।