রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) আসন্ন নির্বাচন-২০২৬ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদ। নির্বাচনী প্রচারের জন্য অপ্রতুল সময় এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানায় প্যানেলটি।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন বরাবর দেওয়া এক চিঠিতে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।
চিঠিতে বলা হয়, প্রার্থীরা আসন্ন ইন্টার্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখতে চান। তবে বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কিছু সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
নির্বাচন বয়কটের অন্যতম কারণ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণের মধ্যবর্তী সময় অত্যন্ত স্বল্প হওয়ায় প্রার্থীদের সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছানো এবং নিজেদের ইশতেহার ও পরিকল্পনা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ থাকছে না।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নির্বাচন বয়কটের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দিতে তাড়াহুড়ো করে তফসিল ঘোষণা করে সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ইশতেহার সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত পাঁচ দিন চেয়েছি। নির্বাচন কমিশন প্রচারের জন্য অতিরিক্ত সময় না দিয়ে বরং একদিন কমিয়ে ১৯ তারিখে নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করেছে।

ডা. জাহিদুল জানান, আইডিএসের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী নিয়মিত কমিটির বৈধ মেয়াদকাল হবে ওই ব্যাচের ইন্টার্নশিপ জয়েনিংয়ের তারিখ থেকে ১২ মাস। সে অনুযায়ী, পূর্ববর্তী আইডিএস কমিটির মেয়াদ গত ৩১ জুলাই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পূর্ববর্তী আইডিএসের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও আইডিএস ব্যানার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে একাধিক ওষুধ কোম্পানিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন রিসেপশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রার্থীদের বারবার হাইলাইট করেছে, যা নির্বাচনের স্পষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সভাপতি প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করে বলেন, গত ১৪ আগস্ট রাত ৮টার দিকে তাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খাদিমুল মুরসালিন রিয়াদ হোস্টেল গেটে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে আমি কীভাবে জিততে পারি, সেটা তিনি দেখে নেবেন। এভাবে সরাসরি হুমকি দেওয়া নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষার জন্য উভয় প্যানেলকে সমান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে ডা. জাহিদুল বলেন, এটি একটি পাতানো নির্বাচন এবং একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে নির্বাচিত করার জন্য এই প্রহসনের নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। তাই সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্দলীয় নির্বাচনী পরিবেশ বজায় না থাকায় আমরা নির্বাচন বয়কট করছি।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. খাদেমুল মুরসালিন রিয়াদ বলেন, প্রচারের জন্য দুই পক্ষই সমান পরিমাণ সময় পেয়েছে। মনোনয়ন দেওয়ার পথ থেকে দুই পক্ষই সমান পরিমাণ সময় পাইছে। এমন না যে কোনো এক পক্ষ বেশি পাইছে বা কোনো এক পক্ষ কম পাইছে।
ডা. জাহিদুলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. খাদেমুল বলেন, এরকম কোনো ডকুমেন্ট নাই বা এরকম কোনো কথা নাই। সেটা পুরোটা বানোয়াট কথা। নির্বাচনকে এবং ইলেকশন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা এটা বলছে আরকি।
নির্বাচনের তারিখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচালক স্যারকে একটা তারিখ প্রস্তাবনা করা হয়েছিল যে ২০ আগস্ট। স্যারের মনে হয়েছে ঐদিন ভালো হয়, স্যার এপ্রুভ করেছেন এবং এই তারিখ ঘোষণা করা হইছে। নির্বাচন পিছানোর জন্য তারা যে আবেদন করেছিল সেটা ইসির ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই আবেদনটার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এখন নির্বাচন ১৯ তারিখ হবে। কারণ ১৯ তারিখে একটা প্রোগ্রাম আছে। সেই প্রোগ্রামটা দ্বারা যেন কেউ ভোটকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য ঐ প্রোগ্রামের আগেই আমরা ভোটটা করে ফেলতে চাচ্ছি।