রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন হাসপাতালটির ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন তারা। কর্মসূচি থেকে নতুন করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে চিকিৎসকরা জানান, অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তার ও স্টাফদের উপর শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনায় আমরা ইন্টার্ন ডাক্তাররা স্পষ্ট তিন দফা দাবি পেশ করেছিলাম। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের প্রধানতম দাবি দোষীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করা এখনো সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ৪৮ ঘন্টার আশ্বাসের ভিত্তিতে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মবিরতিতে যাই। এই ৪৮ ঘন্টায় হাসপাতালে প্রবেশদ্বারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, কিন্তু তা নামমাত্র। নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করার কথা ছিল, যেটি এখনো অপ্রতুল।
এতে আরও বলা হয়, আমাদের অন্যতম দাবি ছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করবে। এর প্রেক্ষিতে এফআইআর রুজু হয়েছে। কিন্তু আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা মৌখিক আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছি না। ইতোপূর্বে আমাদেরকে অনেক মৌখিক আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

এ অবস্থায়, মুগদা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আজকে আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলমান থাকবে। আমরা দ্রুত দাবিগুলো আদায়পূর্বক ডিউটিতে ফিরতে চাই। ২৪ ঘন্টায়ও আশানুরূপ ফলাফল না আসলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন তার স্বজনরা। এতে তিনজন চিকিৎসক আহত হন। গুরুতর আহত হন আরও একজন ওয়ার্ডবয়। পরে তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। আর আহত চিকিৎসকদের মধ্যে একজন ইন্টার্ন এবং একজন ট্রেইনি চিকিৎসক রয়েছেন।