ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেনস মালিকরা। এতে অ্যাম্বুলেনস না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ধর্মঘট শুরু করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেনস মালিক সমিতি।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
এক রোগীর ভাই জানান, তার ভাই হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি। তার ভাইয়ের স্ট্রোক হয়েছে। সাভার থেকে তারা এই হাসপাতালে এসেছেন।
তিনি জানান, চিকিৎসক তার ভাইয়ের এমআরআই করতে বলেছেন। লালবাগে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাবেন, কিন্তু অ্যাম্বুলেনস পাচ্ছেন না।

শাহজাহান মিয়া (৮০) নামে এক রোগীর মেয়ে জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। গত ১৭ অক্টোবর তার বাবাকে ভর্তি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। কিন্তু অ্যাম্বুলেনস না পেয়ে যেতে পারেননি। উপায় না পেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা করছিলেন রেজাউল করিম। তিনি জানান, গতকাল মাওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনায় তার বোন সীমা আক্তার আহত হন। চিকিৎসকরা তার বোনকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি, অ্যাম্বুলেনস পাইনি। ৯৯৯ নম্বরে কল করেও লাভ হয়নি।
এক রোগীর স্বজন শফিক আহমেদ বলেন, পুরো হাসপাতাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। অ্যাম্বুলেনসও এর বাইরে না। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেনস এনে রোগী নিয়ে যাব, তাতেও চালকেরা বাধা দিচ্ছেন। রোগীদের জিম্মি করে তারা আন্দোলন করছেন। সরকারের উচিত, তাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

এ বিষয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেনস মালিক সমিতির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেনস ধর্মঘট চলছে। আজ যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামীকাল থেকে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেনস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।