রাজধানীতে চিকিৎসার ব্যয় যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, তখন মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (এমএফএসটিসি)। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে উঠেছে নির্ভরতার জায়গা। স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন রোগীরা।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন শত শত গর্ভবতী নারী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৫ টাকার টিকিটের বিনিময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের প্রসবসেবা দেওয়া হয়। প্রসবের পাশাপাশি মা ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবস্থাও রয়েছে। চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়ের এই সময়ে স্বল্প খরচে নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবার ক্ষেত্র মাতৃস্বাস্থ্য। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এড়িয়ে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রসবের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়।
রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। কখনো চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙতে হয়, আবার কখনো ঋণ নিতে হয়। এমন বাস্তবতায় মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ সীমিত আয়ের পরিবারের সদস্য। তাঁদের ভাষ্য, অন্য জায়গার তুলনায় এখানে কম খরচে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে আর্থিক চাপের কারণে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও কমছে।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, এখানে চিকিৎসা নিতে এসে ভালো সেবা পাওয়া যায়; খরচও অনেক কম। অন্য জায়গায় চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক টাকা লাগে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই হাসপাতাল অনেক উপকার করছে।

হাসপাতালটির পরিচালক ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, আমরা এখানে খুব কম খরচে ভালো মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিই। রোগীরা যেন সঠিক চিকিৎসা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।