রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত আলম শেখ (৪১) মানসিক ভারসাম্যাহীন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে হাসপাতালের ভেতরে জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান অয়ন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আলম শেখ বুধবার রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনরা তাকে শিশু চোর বলে সন্দেহ করেন। এসময় স্বজনরা আলম শেখের কাছে হাসপাতালে আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। তখন একদল মানুষ সন্দেহভাজন আলম শেখকে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের নিচে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, নিহত আলম শেখের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এলে মামলা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে আলম শেখের পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিহত আলম শেখ রাজধানীর রূপনগরের এলাকার বাসিন্দা। নিহতের পরিবার বলেছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার মুন বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চোরের উৎপাত লক্ষ্য করা যায়। কাল হঠাৎ করে গভীর রাতে চোর সন্দেহে একজনকে আটক করে কিছু লোকজন। পরে তাকে হাসপাতাল বাউন্ডারির ভেতরে বাতজ্বর ও হৃদরোগ কেন্দ্রের সামনে বেঁধে মারধর করা হলে তার মৃত্যু হয়। তবে শিশু চোর সন্দেহের বিষয়টি আমার জানা নেই।