ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের একটি টয়লেট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে হত্যার পর লাশ টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের একটি টয়লেট থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে একটি রক্তমাখা ছুরি পাওয়া যায়। দুই জায়গার মধ্যে ৫ মিনিটের হাঁটার দূরত্ব।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশ আলামত সংগ্রহ করছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাহমুদ শেখ জানান, সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নিচ তলায় টয়লেট পরিষ্কার করতে যান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী কক্ষগুলোর দরজায় নক করে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের হতে বলেন। ৪ নম্বর কক্ষের দরজায় নক করার পর দীর্ঘ সময়েও সাড়া না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়। পরে দুই সহকর্মীর সহযোগিতায় দরজা খুলে ভেতরে ওই নারীকে রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, ঘটনাটি আনসার সদস্যদের জানানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় খবর দেয়।
এদিকে, আজ ভোরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেইটের সামনে থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাশী পেল্লী সন্তোষ জানান, সকাল ৬টার দিকে তিনি ছুরিটি দেখতে পান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ওই স্থানের মেঝে পরিষ্কার করেন এবং ছুরিটি ধুয়ে নিজের কাছে রাখেন।
এ ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান বলেন, সকালে এসে তিনি বাথরুমে নারীর ঝুলন্ত থাকার কথা শোনেন। কনফারেন্স রুমের দ্বিতীয় গেটের সামনে ও নিচে রক্তের দাগ এবং ফোঁটা ফোঁটা রক্তের চিহ্ন ছিল। সকালে আনসার ডিউটি পরিবর্তনের সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্য ক্লিনারকে দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করান।

ডা. শায়লা বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল কোনো রোগীর শরীর থেকে রক্ত পড়েছে। হাসপাতালে এমন হয়। পরে বাথরুমের ঘটনা জানার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা আছে, ফুটেজ দেখলে বিস্তারিত জানা যাবে।
শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা মেডিকেলে এসেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। লাশ উদ্ধার, আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।