শীতকাল এলেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধারণা তৈরি হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো- শীতকালে বিশেষ করে রাতে কলা খেলে সর্দি-কাশি বাড়ে। এ ধারণার কারণে অনেকে শীতের সময় কলা খাওয়া এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, কলা খেলে সরাসরি সর্দি-কাশি হয়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকায় শীতকালেও সুষম খাদ্যতালিকায় কলা রাখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অস্বস্তি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তবে শুধু শীতকাল বলে সবার জন্য কলা খাওয়া নিষিদ্ধ করার কারণ নেই।
কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফোলেটের ভালো উৎস। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ ও শরীরে শক্তি জোগানোর উপযোগী শর্করা। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পেশির কর্মক্ষমতা ও হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে।

কলায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, খাদ্যআঁশ হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় খাদ্যআঁশ গ্রহণের সঙ্গে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ উপকার শুধু কলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য ফল থেকেও আঁশ পাওয়া যায়।
সকালের নাশতায় কিংবা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া যেতে পারে। এতে থাকা শর্করা শক্তি জোগায় এবং পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
রাতে কলা খাওয়া কি ক্ষতিকর?
শীতের রাতে কলা খেলে সর্দি-কাশি বাড়ে—এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ঠান্ডা খাবার খেলে গলায় সাময়িক অস্বস্তি হতে পারে। কলা খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করলে নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ বা সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে।

আয়ুর্বেদিক খাদ্যচর্চায় রাতে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রাতে কলা খেলেই কফ বাড়ে বা কলা হজম হতে অতিরিক্ত সময় লাগে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
যারা সতর্ক থাকবেন
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলা খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও কলার পরিমাণ ও সামগ্রিক শর্করা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, শীতকালে কলা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে কলা ও অন্যান্য ফল খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। মনে রাখতে হবে, কোনো একটি খাবার একাই রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না।