ক্যানসার ও কিডনি রোগসহ জটিল সাতটি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। তালিকাভুক্ত রোগগুলো হলো- ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুরারোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসার সামর্থ্য বাড়ানো এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য। রোগী নিজে অথবা তাঁর পরিবারের সদস্য, অভিভাবক কিংবা আইনানুগ অভিভাবক এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই বছর সহায়তা পেয়েছিলেন ৫৬১ জন। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিবারের আয়-ব্যয়ের পাশাপাশি যাঁদের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে, তাঁদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
একই অর্থবছরে একজন আবেদনকারী একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ সহায়তা পেতে পারবেন। ভুল তথ্য বা জাল কাগজপত্র জমা দিলে কিংবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

যেভাবে আবেদন করবেন
প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন লিংকে আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের সঙ্গে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, ব্যাংক হিসাব ও চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি জমা দিতে হবে। চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও প্রয়োজন হবে।

রোগভেদে পরীক্ষার রিপোর্ট আলাদা। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি, কিডনি রোগে ইউরিয়া-ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা ও ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত কাগজপত্র, লিভার সিরোসিসে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ফাইব্রোস্ক্যান, প্যারালাইসিসে এমআরআই বা সিটি স্ক্যান এবং হৃদরোগে এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্ট দিতে হবে। থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন। সাধারণত এসব রিপোর্ট এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না।