ফরিদপুরে সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন শেষে প্রসূতির পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করা হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থেকে গত ১৯ আগস্ট মারা গেছেন কণিকা মণ্ডল। নিহত প্রসূতির পরিবারের কাছে ছুটে গিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কণিকা মণ্ডলের স্বামী অশান্ত মণ্ডলের বাড়িতে যান মন্ত্রী।

এ সময় নিহত প্রসূতির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, এর ভিত্তিতে দায়ী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের পরিবার দাবি জানায়, শুধু আশ্বাস নয়, অভিযুক্ত চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কণিকা মণ্ডল (৩৫)।
পরদিন তার পেট ফুলে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজ পাওয়া যায়। সেদিনই অস্ত্রোপচার করে গজগুলো বের করা হয়। ৫২ দিন অসুস্থ থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কণিকা মন্ডল।