রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম মানবদেহের স্পাইনাল কর্ড (মেরুরজ্জু) প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হয়েছে। ১২ ঘণ্টাব্যাপী এই অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরিয়ে সেখানে মেরুরজ্জুর অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তিন বছর আগে আঘাতের কারণে ওই ব্যক্তির মেরুরজ্জু বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা ভালো বলে জানানো হলেও পদ্ধতিটির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন গবেষক। তাদের প্রশ্ন, প্রতিস্থাপিত মেরুরজ্জু আদৌ কার্যকর হবে কি না। এমনকি অস্ত্রোপচারের ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।
চীনা শল্যচিকিৎসক রেন শিয়াওপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ খবর প্রকাশ করেছে।
একসময় মানুষের মাথা প্রতিস্থাপনের প্রথম অস্ত্রোপচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় আসা রেন এবার মেরুরজ্জু প্রতিস্থাপনের এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মস্কোর স্ক্লিফোসোভস্কি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জেন্সি মেডিসিনে অস্ত্রোপচারটি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে তিনি বলেন, চীনের গুয়াংসি ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের দ্বিতীয় অধিভুক্ত হাসপাতাল এবং রাশিয়ার একটি চিকিৎসক দল যৌথভাবে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেছে।
এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) নিউ সায়েন্টিস্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রেনের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, অস্ত্রোপচারে তিন বছর আগে আঘাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মেরুরজ্জুর একটি অংশ অপসারণ করা হয়। এরপর এক দাতার মেরুরজ্জু থেকে নেওয়া অংশ সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মাইক্রোসার্জারির পাশাপাশি পলিইথিলিন গ্লাইকল নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি কোষের ঝিল্লি একত্রে জোড়া লাগাতে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের দাবি, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা বিশ্বের প্রথম মানবদেহে মেরুরজ্জু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন।

তবে অস্ত্রোপচারের প্রাথমিক ফলাফল সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্য থাকলেও এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এখনো স্পষ্ট নয়। রোগীর স্নায়বিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরবে এবং প্রতিস্থাপিত অংশটি মেরুরজ্জুর সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত হতে পারবে কি না, তা নির্ধারণে আরও পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।