Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬


জনসন ট্যালকম পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব

Main Image

ফাইল ফটো


ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হওয়ার অভিযোগে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার মামলা দায়ের হয়েছিল। এসব মামলার নিষ্পত্তিতে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি দেশটিতে ট্যালক ক্যানসার-সংক্রান্ত বিচারাধীন মোট মামলার ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

 

তবে সমঝোতাটি কার্যকর হতে হলে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আদালতের অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে সম্মতি দিতে হবে।

 

২০২৪ সালে ট্যালককে মানুষের শরীরে সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

ট্যালক একটি কোমল খনিজ, যা দীর্ঘদিন প্রসাধনী ও শিশুপণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও ক্যানসারের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

 

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন দাবি করে আসছে, ট্যালক ক্যানসারের কারণ; এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবু প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে।

 

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে সাত কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে রায়টি বাতিল হলেও এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন আদালত বাদীদের পক্ষে রায় দিতে শুরু করে।

 

প্রতিষ্ঠানটির আইনবিষয়ক প্রধান এরিক হাস বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে জনসন অ্যান্ড জনসন দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান ঘটাতে চায়।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এক দশকের আইনি লড়াইয়ের সন্তোষজনক সমাপ্তি হিসেবে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

তবে এই সমঝোতা যুক্তরাজ্যের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে সাত হাজারের বেশি সম্ভাব্য দাবিদারকে নিয়ে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পণ্যদায়বদ্ধতা মামলা এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ট্যালক ক্যানসারের কারণ হতে পারে- এ তথ্য জানা সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন পণ্যটি বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল। প্রতিষ্ঠানটি এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

 

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন