Ad
Advertisement
Doctor TV

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬


সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা

Main Image

ছবি: সংগৃহীত


সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যেকার বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। আদালতের সাম্প্রতিক একটি আদেশের ব্যাখ্যা নিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ কয়েক শত লোক নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শিরিন পারভিন হকের নেতৃত্বে নতুন ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে তিনি ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই ট্রাস্টিবোর্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ডা. নাজিম উদ্দিন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিবোর্ডের চার সদস্যের মধ্যে বর্তমানে কেবল ডা. নাজিম উদ্দিন জীবিত রয়েছেন। তার দাবি, একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার আইনগত অধিকার তারই রয়েছে।

 

বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য মঞ্জুর কাদির বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ডা. নাজিম উদ্দিনকে ট্রাস্টিবোর্ড থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ট্রাস্টিবোর্ডের বৈধতা নিয়ে উভয় পক্ষের মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও দাবি করেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর থেকেই ডা. নাজিম উদ্দিন ও তার অনুসারীরা কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কয়েক দফা একই ধরনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে তার দাবি।

 

অন্যদিকে ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ড আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাকে বাদ দিয়ে ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। 

 

তার দাবি, গত ৫ জুলাই আদালত তার পক্ষে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে বর্তমান ট্রাস্টিবোর্ডের কার্যক্রমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আদালতের ওই আদেশ অনুযায়ী তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার অধিকারী হলেও সেখানে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। 

 

তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই কে বৈধ ট্রাস্টি তা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন