
সংগ্রহীত
সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে যে কয়েকটি শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। তাই তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝেই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বা অচেতন হয়ে পড়েন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে।
অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি কি?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি একটি জটিল স্নায়ুবিক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি হলো আমাদের শরীরের ভেতরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুগুলোর এক ধরনের ক্ষতি বা অবক্ষয়জনিত রোগ।
আমাদের অজান্তেই শরীরের যেসব কাজ অনবরত চলছে—যেমন হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, হজমপ্রক্রিয়া এবং মূত্রথলি নিয়ন্ত্রণ—সেসব নিয়ন্ত্রণ করে এই অটোনোমিক স্নায়ুতন্ত্র। এই স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের স্বাভাবিক এবং স্বয়ংক্রিয় কাজগুলো ব্যাহত হয়।
লক্ষণ
ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে, যেমন: দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, অতিরিক্ত বা খুব কম ঘাম হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে বা সম্পূর্ণ খালি করতে সমস্যা, পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা নারীদের যৌন সমস্যার মতো উপসর্গ।
কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডায়াবেটিস (বিশেষ করে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে), এছাড়াও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কিছু অটোইমিউন রোগ, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, বংশগত বা বিরল স্নায়ুরোগ অন্যতম কারণ। সংক্রমণ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসা নির্ভর করে কারণের ওপর। যেমন—ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ধীরে ধীরে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন।
আরও পড়ুন