Ad
Advertisement
Doctor TV

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬


৪-৫ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

Main Image

ছবি: সংগৃহীত


আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) সম্পূর্ণ নির্মূলের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানান, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—এই তিন খাতের সমন্বিত উদ্যোগে একটি জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব। 

 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক মানুষদের ছানি দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক ক্যাটারাক্ট সার্জারি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে। প্রতি বছর কয়েক লাখ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব।

 

একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইটেক চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেশের একদম প্রান্তিক ও গরিব মানুষের কাছে নাগরিক অধিকার হিসেবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

 

আই কেয়ার খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট এবং ট্রেনিং ক্যাডারের ওপর সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। দেশে বর্তমানে এনজিও এবং প্রাইভেট খাতের অনেক ভালো ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন রয়েছে। আমাদের সরকারি-বেসরকারি সকল ইনস্টিটিউশনের সংখ্যা এবং মান বাড়িয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা অর্জনের পথ সহজ করতে হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সরকারি খাত, বেসরকারি উদ্যোগ এবং এনজিও—এই তিন সেগমেন্টেই চোখে পড়ার মতো ও প্রশংসনীয় কাজ হচ্ছে। তবে আমাদের একটি সমন্বিত ও কমন রিপোর্টিং সিস্টেম নেই। তাই আমরা একটি জাতীয় উদ্যোগ বা ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ গ্রহণ করছি। এই খাতটি এক দিনে পরিবর্তন হবে না, তাই আমরা পাঁচ বছর মেয়াদি পার্সপেক্টিভ প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি।

 

তিনি আরও জানান, প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোতে বিদ্যমান আই কেয়ার সুবিধা ও প্ল্যানিং পুনর্মূল্যায়ন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও নতুন জনবল নিয়োগ এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

সব বয়সের মানুষের কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছানোর বিশেষ দিক-নির্দেশনা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট শিশুদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের জন্য সমন্বিত ক্যাম্পেইন ও প্রোগ্রাম চালানো হবে। প্রতিটি কলকারখানা, অফিস ও প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হবে এবং চশমা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

 

ড. এম এ মুহিত বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কমিউনিটি আউটরিচ বা মাঠপর্যায়ে সেবা দেওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমরা চাই- হাইটেক আই কেয়ার শুধু শহরের ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রান্তিক মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছাক।

 

আরও পড়ুন