
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও চিত্র হুবহু নকল করার অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে একটি অসাধু চক্র।
প্রতারক চক্রটি যৌনস্বাস্থ্য ও প্রস্টেটের অবৈধ ওষুধের বিপণন চালাচ্ছে অভিযোগ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে লিখিত দিয়েছেন ডা. কামরুল ইসলাম। একই সঙ্গে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাও করেছেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক।
অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয়, কণ্ঠস্বর এআই/ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা বিকৃত ভিডিও করে বিভিন্ন ধরনের ভুয়া, বেজাল ও অননুমোদিত ওষুধ বা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বিজ্ঞাপন করছে। বিজ্ঞাপনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ভুলভাবে বিশ্বাস করতে পারে যে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম নিজে ওই ওষুধ বা পণ্য অনুমোদন, পরামর্শ বা প্রচার করছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বাস্তবে অধ্যাপক কামরুল কিংবা তার প্রতিষ্ঠান সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো ওষুধ, পণ্য বা অনলাইন বিজ্ঞাপন/ফেসবুক পেজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। এই ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে অধ্যাপক কামরুলের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, হাসপাতালের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ রোগী ও জনগণ প্রতারিত হওয়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্য, রোগীর নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাপেশার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকায় বিষয়টি প্রথমে তাঁর নজরে আসেনি বলে জানান ডা. কামরুল ইসলাম। স্বনামধন্য এই চিকিৎসক বলেন, আমার রোগীরা যখন চেম্বারে এসে আমাকে এই ওষুধগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন, তখন আমি প্রথম বিষয়টি জানতে পারি। পরে রোগীদের মোবাইল স্ক্রিনেই আমি সেই ভিডিওগুলো দেখি। আমি স্তব্ধ হয়ে যাই যে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে আমার অবয়ব, মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে প্রস্টেট ও যৌনস্বাস্থ্যের ওষুধ বিক্রির বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ডা. কামরুল বলেন, আমি একজন সার্জন, সার্জারির মানুষ। চিকিৎসার বৈশ্বিক উন্নত প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের দেশে আনা যায় এবং অস্ত্রোপচারকে কতটা নিখুঁত করা যায়—তা নিয়েই আমার সারাজীবনের কাজ। আমি কোনো মেডিসিনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নই। এমনকি চিকিৎসার সাধারণ প্রয়োজনে যতটুকু প্রয়োজন, তার বাইরে আমি কোনো ওষুধের প্রচার বা পরামর্শ দিই না।
শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ছাব্বির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, মামলা হওয়ার পর সাইবার টিমের সহযোগিতায় বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে, অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। চিহ্নিত করে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন