
ফাইল ফটো
চট্টগ্রামে আশঙ্কাজন হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সম্প্রতি শক সিন্ড্রোমের মতো জটিল উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেক রোগী। আগামী কয়েক সেখানে মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে নগরীর আটটি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত মে মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। তবে জুলাই মাসের অর্ধেকের মধ্যেই এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে। মাত্র আড়াই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন চার হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত হন। চলতি বছরের ১৪ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ রোগী জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও ডায়রিয়ার মতো শক সিন্ড্রোমের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামও ভাইরাসজনিত হওয়ায় শুরুতে দুটি রোগের উপসর্গ অনেক সময় মিল থাকায় রোগ নির্ণয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ডেঙ্গু এবং মিজেলস যেহেতু দুইটাই ভাইরাসজনিত রোগ, দুইটাতেই জ্বর নিয়ে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে আসলে আলাদা করা মুশকিল হতে পারে। ডেঙ্গুতেও কিন্তু র্যাশ দেখা যায় যেটা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মোবাইল কোর্ট করে মানুষকে সতর্ক করা বা মানুষকে যাতে জরিমানা আনা যায় সেইভাবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। তবে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা মানুষকে সচেতনতা দিচ্ছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং হটস্পটগুলোতে বেশি বেশি করে ওষুধ ছিটানোর জন্য আমরা আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিটস আমরা রেখেছি এবং আমাদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় যে আইভি ফ্লুইডগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলোও আমরা আমরা মজুদ করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন