
ফাইল ফটো
উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে ঠিকানাবিহীন কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
যাত্রা শুরুর প্রায় ৮ বছরেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি দেশের চতুর্থ সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি। এখনো নেই স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু করতে পারেনি। বর্তমানে শুধুমাত্র অধিভূক্ত মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস, বিডিএস ও নার্সিং কোর্সের পরীক্ষা নেওয়াতেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
তবে গত বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাও মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়নি কনসালট্যান্ট। একাডেমিক কার্যক্রমও শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
আওয়ামী দুঃশাসনের সময় প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রশাসনিক জটিলতা, পরীক্ষা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রিতা আর নিয়োগ বাণিজ্যের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি অধীনস্থ মেডিকেল কলেজ সমূহের পেশাগত পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট বাৎসরিক সময়সূচি নির্ধারণসহ দ্রুততার সাথে ফল প্রকাশ এবং সুপার স্পেশালাইজড একটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কাজ নির্মানাধিন রয়েছে। এখন পর্যন্ত অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন দেড় বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নিয়ে চালু হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থায়ী জনবল নেই। যদিও প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী অ্যাডহক ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে ২৩৯ জন জনবল নিয়োগ দিয়েছিলেন।তবে সেগুলো করোনা মহামারির কারণে তার মেয়াদকালে স্থায়ী করতে পারেননি। এরপর মাঝখানে আরও দুইজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করতে ব্যর্থ্য হন।
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. ইসমাইল পাটোয়ারী। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ২৭ এপ্রিল অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল পাটোয়ারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ডা. জিয়াউর রহমানকে চার বছরের জন্য তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে, তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।তারপর ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
জনবল সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
এসআরএস/ডিটিভি
আরও পড়ুন