
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসকে সামনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ‘ট্রান্সফরমিং হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা কেয়ার ইন বাংলাদেশ: ফ্রম প্রিভেনশন অ্যান্ড আর্লি ডিটেকশন টু প্রিসিশন অ্যান্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট অনকোলজি’ বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে হেপাটোলজি বিভাগ এবং বিএমইউ হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞগণ লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, সিস্টেমিক আধুনিক চিকিৎসা, লিভার প্রতিস্থাপনভিত্তিক চিকিৎসা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও শনাক্তকরণে জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ বা জনসংখ্যাভিত্তিক লিভার ক্যান্সার রেজিস্ট্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, লিভার ক্যান্সার বা হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা (HCC)-এর প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, আধুনিক সিস্টেমিক চিকিৎসা, জাতীয় এইচসিসি রেজিস্ট্রি গঠন, সমন্বিত গবেষণা এবং লিভার প্রতিস্থাপনভিত্তিক চিকিৎসার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা জরুরি। লিভারের রোগ প্রতিরোধে ফ্যাটি লিভার, বি ভাইরাস, সি ভাইরাসের চিকিৎসা ও করণীয় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এখন সময়েরই দাবি।
তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এর রোগীরা লিভার রোগে আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সেদিকে আরো দৃষ্টি দিতে হবে। সাথে সাথে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে জনসংখ্যাভিত্তিক রেজিস্ট্রির দিকেও নজর দিতে হবে। হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং লিভার ক্যান্সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক চিকিৎসা ও গবেষণার প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, প্রতিবছর লিভার রোগের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগী দেশের বাহিরে যান। আমাদের মুল লক্ষ্য হল বাংলাদেশেই লিভার রোগের সব ধরণের উন্নত ও আধুনিক মানসম্মত চিকিৎসা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করা। প্রকৃতপক্ষে, লিভার রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য, সেটা যেমন নিশ্চিত করতে হবে একই সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আধুনিক আবিষ্কার ও নব নব সংযোজনকে রোগীদের সার্বিক চিকিৎসায় কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বাংলাদেশে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্ক্রিনিং, জাতীয় রেজিস্ট্রি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন