Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬


হাম পরবর্তী জটিলতায় অন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রোগীরা

Main Image

ফাইল ফটো


হামে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে গুরুতর একটি সমস্যা হচ্ছে হাম পরবর্তী চোখের জটিলতা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের ভাইরাস সরাসরি চোখের টিস্যুকে আক্রান্ত করতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা না নিলে স্থায়ীভাবে অন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে হামের শারীরিক উপসর্গ কমে যাওয়ার পর চোখে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কর্নিয়ায় প্রদাহ এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত বা আলসার।

 

জানা যায়, গত তিন চার মাসে প্রায় ৩৫০ জন রোগী হাম-পরবর্তী চোখের জটিলতায় চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু একই ধরনের জটিলতায় চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

 

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ কিছুটা কমার পর চোখে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রথম দিকে চোখ লাল হওয়া বা কনজাংটিভাইটিস দেখা গেলেও মূল জটিলতা শুরু হয় কর্নিয়া আক্রান্তের মাধ্যমে। রোগীরা প্রথমে ঝাপসা দেখা শুরু করেন, চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে এবং আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হয়। অনেকের ফটোফোবিয়া (আলোতে চোখের সমস্যা) হয়।

 

চিকিৎসকদের মতে, পুষ্টিহীনতা বা ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় কর্নিয়ায় আলসার বা ঘা তৈরি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সেই ক্ষত থেকে কর্নিয়ায় ছিদ্র পর্যন্ত হতে পারে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই হামের পর চোখের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। রোগী আইসোলেশনে থাকাকালেও চোখের সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত হয়ে কনজাংটিভাইটিস ও কর্নিয়া-সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুর পুষ্টি ঠিক থাকলে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হামজনিত চোখের সংক্রমণ ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে, তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, কানে সংক্রমণ হতে পারে, নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া এনসেফালাইটিসের কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ হলে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। 

 

ডব্লিউএইচও সুপারিশ করেছে, হামে আক্রান্ত সব শিশুকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভিটামিন ‘এ’-এর দুটি ডোজ দেওয়া উচিত। ভিটামিন ‘এ’ চোখের ক্ষতি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ও অপুষ্টিপ্রবণ এলাকায় এর গুরুত্ব বেশি।

 

এসআরএস/ডিটিভি

আরও পড়ুন