Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬


ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ২২৯৫, ক্ষতি প্রায় ৭০০ কোটি ডলার

Main Image

সংগ্রহীত


সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানে দুই দুটি ভূমিকম্প। গত ২৪ জুন ভোর ৬ টা ৪ মিনিটে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে সাত দশমিক দুই ও সাত দশমিক পাঁচ মাত্রার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অন্তত দুই হাজার ২৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৭০ কোটি ডলারের বেশি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।

১২৬ বছর পর এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে দেশটির মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৯০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যাসোসিয়েড প্রেসের তথ্য মতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। এ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে হাজারো মানুষ বসবাস করছেন।

সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

নাসার এক স্যাটেলাইট গবেষণার তথ্য মতে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হবার দিক থেকে দেশটির সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি দ্রুতই একটি বড় চিকিৎসা সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই দুর্যোগে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি এবং চিকিৎসকদের দেশত্যাগের কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাজধানী কারাকাসের হাসপাতাল দেল ওয়েস্তে ড. হোসে গ্রেগরিও হার্নান্দেজের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউজেনিও কোভা বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন সংক্রমণ। দীর্ঘ সময় ধরে দুর্যোগে আটকে থাকা রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। জটিল আঘাতের পাশাপাশি এখন সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের মানবিক সংস্থার মুখপাত্র ভেরোনিক দুরো বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্জ্য ও ধ্বংসস্তূপ ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ দিকে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৯০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণে মার্কিন বাহিনী কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে মেরামত করেছে। পাশাপাশি উপকূলে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও ১০০ সদস্য এই কার্যক্রমে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে। তবে ইউএনডিপি স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছয় দশমিক সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় এই সহায়তা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

এরই মধ্যে ইকুয়েডর, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৫০টি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা দেশগুলোর উদ্ধারকারীরাও এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯০০ সালের সান নারসিসো ভূমিকম্প ছিল ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পের যার মাত্রা ছিল সাত দশমিক ছয় থেকে সাত দশমিক সাত। এতে দেশটির উত্তর উপকূলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে এবং রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি ছিল।

আরও পড়ুন