Ad
Advertisement
Doctor TV

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬


অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ‘আজীবন এমেরিটাস’ নিয়োগ বাতিল করল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; টাকা ফেরতের নির্দেশ

Main Image

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ‘আজীবন এমেরিটাস’ নিয়োগ বাতিল করল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; টাকা ফেরতের নির্দেশ


সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ, বি, এম, আব্দুল্লাহর ‘আজীবন অধ্যাপক এমেরিটাস’ পদের নিয়োগ বিধি-বহির্ভূত বিবেচনা করে বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BMU) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ডা. মো: মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় সমস্ত তথ্য-упат্ত বিশ্লেষণ করে এই নিয়োগটি বাতিল করা হয়। একই সাথে এই নিয়োগের বিপরীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে নেওয়া আনুমানিক সাড়ে ১৪ লক্ষাধিক টাকা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
​নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২ সালে তাকে সম্পূর্ণ বিধিসম্মতভাবে ৩ বছরের জন্য মাসিক ৩০,০০০ টাকা সম্মানীতে এমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার মেয়াদের শেষ দিকে, ২০ জুন ২০২৪ তারিখে সিন্ডিকেটের সভায় মূল এজেন্ডার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ডিন বা মূল্যায়ন কমিটির কোনো সুপারিশ ছাড়াই, কেবল একজন সদস্যের প্রস্তাবে তাকে আজীবন এমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং একজন পূর্ণকালীন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ আর্থিক সুবিধা বরাদ্দ করা হয়, যেখানে যোগ্যতা হিসেবে শুধু ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক’ বিষয়টি উল্লেখ ছিল।
​বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, এই আজীবন নিয়োগ পাওয়ার পর গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে আসেননি, কোনো প্রকার শিক্ষাদান বা গবেষণার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং প্রশাসনকেও কোনো কিছু অবহিত করেননি। অথচ কোনো কাজ না করেই ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তিনি নিয়মিত পূর্ণ স্কেলে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে গেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির কোনো সুপারিশ বা আর্থিক বিশ্লেষণ ছাড়াই এই নিয়োগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরাবৃত্ত আর্থিক দায় তৈরি হয়েছিল। আইনি ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিয়োগ অবৈধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী টাকা ফেরত চয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কাউকে হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

আরও পড়ুন