Ad
Advertisement
Doctor TV

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬


মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার অভিযোগ, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

Main Image

মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার অভিযোগ, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি


রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের ৪২৯ নং কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক রোগীর ভর্তি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগত কারণে ২০-২৫ মিনিট দেরি হওয়ায় উত্তেজিত হয়ে হিমেল ও তার সাথে থাকা ১০-১২ জন সহযোগী কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্টার, ট্রেইনি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় অভিযুক্ত হিমেল নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এক চিকিৎসকের কলার চেপে ধরেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের প্রতিরোধের মুখে তিনি হাসপাতালের টয়লেটে আশ্রয় নেন এবং পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার মুঠোফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

​এই অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে আজ বুধবার (২৪ জুন) থেকে জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের সব বিভাগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত ৪ জন পুলিশ মোতায়েন করা, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ১ মার্চ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হলেও দীর্ঘ ৪ মাসেও প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। এদিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।

আরও পড়ুন