Ad
Advertisement
Doctor TV

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬


অসহায় রোগীদের জন্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ

Main Image

অসহায় রোগীদের জন্য ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ


ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো গুরুতর ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

 সম্প্রতি অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে স্বাক্ষর করেছেন মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ দেশের ৫৩টি জেলার ৪ হাজার ১০৭ জন উপকারভোগী রোগীর মধ্যে বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যেই বরাদ্দের এই টাকা সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সোনালী ব্যাংকের হিসাবসমূহে স্থানান্তর করা হয়েছে।
 

এই বিশাল বরাদ্দের আর্থিক উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব ৭৫ শতাংশ তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ বাজেটের অব্যয়িত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা যোগ করে মোট এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আবেদন ও স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থ বণ্টন করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পেয়েছে নাটোর জেলা। এছাড়া অন্যান্য জেলার মধ্যে দিনাজপুরে ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে ৮০ লাখ টাকা, রংপুরে ৭০ লাখ টাকা, পাবনায় ৬০ লাখ টাকা এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 

বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট এবং সুনামগঞ্জ। সমাজসেবা অধিদপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই অর্থ অবশ্যই ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বিতরণ ও ব্যয় করতে হবে।
 

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে। একই সাথে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দের কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মাধ্যমে হাজারো দরিদ্র ও অসহায় রোগী উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা তাদের পরিবারের ওপর থেকে মানসিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে।

আরও পড়ুন