
দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু ২৭ জুন
রাদেশে শিগগির ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে ‘হামের চিকিৎসা পদ্ধতি ও ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন’ বিষয়ক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
এদিকে আগামী ২৭ জুন এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনের (আইপিএইচএন) পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী। গতকাল (১৫ জুন) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য শাখা) এটিএম সাইফুল ইসলামও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় দুই কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইপিএইচএন পরিচালক জানান, ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ভিটামিন এ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে এসে গেছে এবং এক থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ক্যাপসুল ১৯ জুনের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাপসুল সংগ্রহের তিনটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তী কর্মসূচি চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পুষ্টির অবস্থার উন্নতি করা। এতে কোনো ত্রুটি হলে অপুষ্টি বাড়তে পারে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে হাম আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
ইউনুস আলী জানান, ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ২,৮৩৮,৭৯৪ জন শিশু এক ধরনের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল পাবে এবং এক থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৩,৫১৪,৯৭২ জন শিশু অন্য ধরনের ক্যাপসুল পাবে।
তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে ১,২০,০০০ কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাপসুলগুলো বিতরণ করা হবে এবং ভ্রমণরত শিশুদের ক্যাপসুল দেওয়ার জন্য বাস ও ট্রেন স্টেশন এবং লঞ্চ টার্মিনালে প্রায় ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
সর্বশেষ জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিটি গত বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তহবিলের অভাব এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্যাপসুল সংগ্রহে জটিলতার কারণে এক বছর পর আবার এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
আরও পড়ুন