
প্রস্তাবিত বাজেট সংকটের তুলনায় অপর্যাপ্ত, বাস্তবসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাবি ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স’-এর
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে স্বাগত জানালেও একে দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য সংকটের তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে আখ্যায়িত করেছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স (এনএইচএ)।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ শা can রুল আলম ও সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় জানান, জিডিপির ১.০২ শতাংশের এই বাজেট স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, ই-হেলথ কার্ড এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো কিছু ইতিবাচক কাঠামোগত প্রস্তাবের কথা বলা হলেও ইন্টারনেটের অভাব ও প্রযুক্তির দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের কাছে এর সুবিধা পৌঁছানো নিয়ে তারা গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তাছাড়া, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান চিকিৎসক-নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের তীব্র সংকট, ওষুধের ঘাটতি, এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাহীনতার মতো বহু মাত্রিক সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষিত রয়েছে।
সংগঠনটির বাজেট প্রণয়ন বিষয়ক ছায়া কমিটি মনে করে, বর্তমান বাজেটে সাধারণ মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের (Out of Pocket Expenditure) যে ৭৩% এর বোঝা রয়েছে, তা কমানোর জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা জাতীয় স্বাস্থ্য বীমার রূপরেখা উল্লেখ করা হয়নি। একই সাথে সরকারি ওষুধ প্রাপ্তি, ডায়াগনস্টিকের মান নির্ধারণ, এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য পুলিশ নিয়োগের মতো জরুরি বিষয়ে কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। এমনকি ইন্টার্ন, ট্রেইনি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা বা নতুন জনবল নিয়োগের স্পষ্ট প্রক্রিয়া নিয়েও বাজেট সম্পূর্ণ নীরব।
এনএইচএ-এর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. সাব্বির সাকি স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অন্তত ৫% বরাদ্দ নিশ্চিত করা, অপচয়-দুর্নীতি রোধে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসক ও নার্সদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণসহ মোট ৯ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। তাদের মতে, শুধু বড় বড় ঘোষণা কিংবা হাসপাতালের নামফলক নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটের প্রতিটি টাকার বিজ্ঞানভিত্তিক ও সুশাসননির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন