
ঈদের আনন্দ মাটি করতে পারে বদহজম; সুস্থ থাকতে যা করবেন
কোরবানির ঈদ মানেই মাংসের নানা পদ, ভুরিভোজ আর অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা। তবে এই সময়েই অনেকের দেখা দেয় বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। বিশেষ করে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার, একসঙ্গে বেশি মাংস খাওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে হজমে সমস্যা বাড়ে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে ঈদের আনন্দ নষ্ট না করেই হজমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
একসঙ্গেবেশি খাবেন না
ঈদের দিনে অনেকেই একসঙ্গে অতিরিক্ত মাংস খেয়ে ফেলেন। এতে পাকস্থলীর ওপর চাপ পড়ে। অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ার অভ্যাস হজমের জন্য ভালো। বিশেষ করে গরু বা খাসির চর্বিযুক্ত অংশ কম খাওয়াই নিরাপদ।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মাংসজাত খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজম হতে পারে। তাই দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। তবে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
আঁশযুক্ত খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়
শুধু মাংস নয়, সঙ্গে সালাদ, শসা, টমেটো, ফলমূল ও সবজি খেতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার হজম সহজ করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না
অনেকেই ভারী খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিতে শুয়ে পড়েন। এতে অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা বাড়তে পারে। খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে খাবার দ্রুত হজম হয়।
অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার কম খান
রেজালা, কোরমা, ভুনা বা ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার বেশি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে। তাই কম তেল ও মসলায় রান্না করা খাবার বেছে নেয়া ভালো।
চা-কফি অতিরিক্ত খাবেন না
অনেকে ভারী খাবারের পর বারবার চা বা কফি পান করেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। এর বদলে লেবু পানি, ডাবের পানি বা সাধারণ গরম পানি উপকারী হতে পারে।
হজমে সহায়ক কিছু খাবার
হালকা গরম পানি, আদা, পুদিনা পাতা, দই বা মৌরি অনেক সময় হজমে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে টক দই অন্ত্রের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সহায়তা করে। ইসবগুলের ভুসিও খেতে পারেন।
সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি তীব্র পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, দীর্ঘসময় বুকজ্বালা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আরও পড়ুন