




জেলায় আইসিইউ সেবা নিশ্চিত হলে বড় হাসপাতালে চাপ কমবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শে চলমান হামের সংক্রমণ নিয়ে দেশবাসীকে সুখবর দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপের ফলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে হামের এই প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, শিশুদের চিকিৎসায় কোনো প্রকার অবহেলা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, "হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে এসব ওয়ার্ডের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সব জেলা হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সেবা পূর্ণাঙ্গ হলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলোর ওপর থেকে রোগীর বাড়তি চাপ কমে আসবে।
টিকাদানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি ভ্যাকসিন শরীরে কার্যকর হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তবুও দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার আশাবাদী। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে দ্রুত সাড়া পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার (৬ মে) দেশে ভ্যাকসিনের একটি বড় চালান এসে পৌঁছাবে।"
শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, পুষ্টিহীনতা এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার কমে যাওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার মতো জটিলতায় শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, হামের বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই দেশজুড়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কোনো শিশুই যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন