Ad
Advertisement
Doctor TV

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬


২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, স্কুল পর্যায়ে অধিকাংশ

Main Image

২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, স্কুল পর্যায়ে অধিকাংশ


২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এরমধ্যে স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%) ও কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%) রয়েছে। তা ছাড়া ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ রয়েছে।

আজ শনিবার ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

 

এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. আনিস আহমেদ (কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য), ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র), ডা. মারুফ আহমেদ খান (সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ), সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

 

ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। 

শিক্ষা স্তরভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%), কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০%) ও মাদরাসায় ৪৪ জন (১০.৭২%) আত্মহত্যা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোরের আবেগীয় অস্থিরতা ও পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।

 

নারী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বেশি: মোট আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি। 

গবেষকরা মনে করছেন, কৈশোরে মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় কারণ।

 

হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ: কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হতাশা ২৭.৭৯%, অভিমান ২৩.৩২%, একাডেমিক চাপ ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণ ১৩.১৫%, পারিবারিক টানাপোড়েন ৭.৯৪%, মানসিক অস্থিতিশীলতা ৬.২০%, যৌন নির্যাতন ৩.৪৭% এবং সাইবার বুলিং ১ জন নারী শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে অভিমান (৩২.৬১%) এবং একাডেমিক চাপ (২৩.৬৯%) সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০%, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা দেশকে নাড়া দিয়েছে।

 

আত্মহত্যারোধে আঁচল ফাউন্ডেশনের ৫ দফা প্রস্তাব: সংকট মোকাবেলায় ফাউন্ডেশন সুপারিশ করেছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মানসিক সংকট শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণ, আত্মহত্যা বিষয়ে সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা, প্রাথমিক শিক্ষকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ ও অভিভাবক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ জোরদার।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‌এই ৪০৩টি মৃত্যু শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং ৪০৩টি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। এখনই কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন