বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম নারীরা হিজাব পরে অগ্নিনির্বাপণ (ফায়ার সার্ভিস) এবং পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কাজ করছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও এই উদ্যোগ ধর্মীয় পোশাক ও পেশাগত নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মুসলিম নারী চিকিৎসকদের ধর্মীয় পোশাকের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্বের সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করতে একবার ব্যবহারযোগ্য (ডিসপোজেবল) জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল হিজাব তৈরি করেছেন মালয়েশিয়ান চিকিৎসক ফারাহ শাহিরা রোসলান।
কয়েক বছর আগে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম অনুযায়ী হিজাব পরার কারণে অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে সরে যেতে হয়েছিল মালয়েশিয়ায় জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসককে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মুসলিম নারী চিকিৎসকদের জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য ও জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল হিজাব তৈরি করেন তিনি।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যের একটি বেসরকারি হাসপাতালেও অস্ত্রোপচারকক্ষে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মুসলিম নারী চিকিৎসকদের একবার ব্যবহারযোগ্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করেছিল।
ডা. ফারাহর তৈরি একবার ব্যবহারযোগ্য সার্জিক্যাল হিজাব পরে মুসলিম নারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অস্ত্রোপচারকক্ষে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা মেনে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারে বসবাসকারী এই চিকিৎসক কয়েক বছর আগে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস অব ডার্বি অ্যান্ড বার্টন এনএইচএস (ইউএইচডিবি) ট্রাস্টে শিক্ষার্থী থাকাকালে এ ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। অস্ত্রোপচারকক্ষে হিজাব ব্যবহারের কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উদ্বেগ থেকেই তার এ উদ্যোগের শুরু।

© ছবিতে নিজের তৈরি সার্জিক্যাল হিজাব পরা ডা. ফারাহ (বাঁয়ে) ও পাশে তাঁর পরামর্শদাতা কলোরেক্টাল সার্জন টিয়ারনি
বিবিসি রেডিও ডার্বিকে ডা. ফারাহ জানান, তিনি সারা দিন একই হিজাব পরে থাকতেন, যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে আদর্শ ছিল না। একবার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে তাকে অস্ত্রোপচারকক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই বিষয়টির সমাধান খুঁজতে উদ্যোগী হন তিনি।

এর আগে, মালয়েশিয়ায় মেডিকেল শিক্ষা শুরু করা ফারাহ নিজের দেশের অভিজ্ঞতা ও উপকরণ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাপড় দিয়ে হিজাবের নকশা ও ব্যবহার যাচাই করেন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি হিজাব তৈরি করেন, যা ধর্মীয় পোশাকের বিধান এবং চিকিৎসা পেশার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে।
ডা. ফারাহর পরামর্শক (মেন্টর) ইউএইচডিব ‘র কলোরেক্ট্যাল সার্জন জিল টিয়ারনি জানান, যুক্তরাজ্যে এই হিজাব প্রথম ব্যবহার করে ডার্বি অ্যান্ড বার্টন হাসপাতাল ট্রাস্ট। তার মতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের অস্ত্রোপচারকক্ষে বিষয়টি নিয়ে নীরব সমস্যা থাকলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে খুব একটা সমাধান করা হয়নি।