অতিরিক্ত মেদ বা ভুঁড়ি শুধু শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না; প্রভাব ফেলতে পারে পুরুষের যৌনস্বাস্থ্যের ওপরও। বিভিন্ন গবেষণায় অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশন তথা উত্থানজনিত সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ভুঁড়ি থাকলেই যে একজন পুরুষ যৌন অক্ষমতায় ভুগবেন, এমন নয়। বরং ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

হাভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকরা ২২ হাজারের বেশি মার্কিন পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, স্থূলতার সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। একইভাবে, এইচ. ডট. লি ও তাঁর সহকর্মীদের ২০২২ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণে একাধিক গবেষণার ফল একত্র করে দেখা যায়, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল পুরুষদের ওজন কমলে যৌন সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ইরেকটাইল ফাংশনের উন্নতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক শারীরবৃত্তীয় কারণ কাজ করে। অতিরিক্ত মেদ শরীরে হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্থূলতার সঙ্গে পুরুষের যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্থূলতার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালির সমস্যা ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে—যেসব সমস্যার সঙ্গেও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

লিঙ্গ উত্থানের জন্য পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ প্রয়োজন। কিন্তু স্থূলতার কারণে রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এতে প্রয়োজনের সময় লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না পৌঁছালে ইরেকশন তৈরি করা বা তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে শুধু ওজন বা ভুঁড়িকেই এর জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। বয়স, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও মানসিক চাপসহ নানা কারণ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই সমস্যার সমাধানে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও কর্মক্ষম জীবনযাপন। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল পুরুষদের ওজন কমানোর পর ইরেকটাইল ফাংশনের উন্নতি হতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া তাই শুধু হৃদ্স্বাস্থ্য বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেই নয়, পুরুষের যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ।